দুর্গাপূজার ছুটিতে ফাঁকা হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ নগরী। টানা পাঁচদিনের ছুটি পেয়ে শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি পাড়ি জমিয়েছে বহু মানুষ। অনেকেই আবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে গিয়েছেন কক্সবাজারসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে। ফলে কর্মব্যস্ত শহরের সড়কগুলোতে কমেছে মানুষের চলাচল। নেই যানবাহনের চাপ। এতে স্বস্তিতে চলাচল করছেন নগরবাসী।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক, নবাব সিরাজউদৌলা সড়ক ও চাষাড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল কম দেখা যায়। এতে কোথাও কোথাও সহজেই যাতায়াত করা যাচ্ছে।
২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের অনেক বাসিন্দাই শহর ছেড়েছেন। কেউ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন, আবার কেউ বেড়াতে গেছেন বিভিন্ন স্থানে। এতে যানজটের নিয়মিত দৃশ্য আপাতত চোখে পড়ছে না।
ছুটির পাশাপাশি যানজট পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মিশুক চলাচল নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ। সিটি করপোরেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শহরে শুধু নিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মিশুক প্রবেশ ও চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে। এতে অনিবন্ধিত যানবাহনের প্রবেশ সীমিত হওয়ায় সড়কে যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে যানজট লাঘব হয়েছে।
তবে এ ব্যবস্থার মধ্যে ভাড়া নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ তুলছেন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, শহরে নির্দিষ্ট যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকায় কিছু চালক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বেশি ভাড়া আদায় করছেন। বিশেষ করে প্রয়োজনের সময় অটোরিকশা বা মিশুক ব্যবহার করতে গিয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ফলে যানজট কমায় যাতায়াতে স্বস্তি মিললেও ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে যাত্রীরা।
এদিকে ছুটির মধ্যে শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীর আয়োজন চলছে। প্রতিমা দর্শন, পূজা-অর্চনা ও উৎসবের নানা আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পূজামণ্ডপে যাচ্ছেন অনেকে। তুলনামূলক কম যানজট থাকায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতও অনেক ক্ষেত্রে সহজ হচ্ছে। উৎসবের আমেজে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপস্থিতি থাকলেও কর্মদিবসের মতো ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে পূজার ছুটিতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চেনা কর্মব্যস্ততায় কিছুটা বিরতি এসেছে। মানুষের চলাচল কমে আসা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ফলে সড়কে চলাচলে স্বস্তি প্রকাশ করছে নগরবাসী।
