সংবাদ · সাধারণ
২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট চালুর পরিকল্পনা
২১/১০/২০২৬

আইএমএফের ঋণ শর্তে ধাপে ধাপে কর অব্যাহতি প্রত্যাহারের উদ্যোগ এনবিআরের
নিত্যপণ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গণপরিবহন খাতের ভ্যাট ছাড় বহাল রাখার প্রস্তাবআন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন ঋণ কর্মসূচি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করে দেশে ১৫ শতাংশ একক ভ্যাটহার চালুর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।তবে সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গণপরিবহনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে এ কঠোর পরিকল্পনার আওতার বাইরে রাখার প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।ওয়াশিংটনে আইএমএফের কারিগরি কমিটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক নীতিগত বৈঠকে এনবিআরের প্রতিনিধিদল এই সংস্কার পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেছে। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে এসে এই রাজস্ব সংস্কারের রূপরেখা ও সার্বিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা মূল্যায়ন করবে।বর্তমানে ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার সামগ্রী, মেট্রোরেল, রেস্তোরাঁ, পোশাক, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারসহ ৫ শতাধিক পণ্য ও সেবায় ২ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাসকৃত ভ্যাট বা সম্পূর্ণ অব্যাহতি রয়েছে। এসব বিশেষ সুবিধা পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবার বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার প্যাকেজভিত্তিক ভ্যাট সুবিধাও নতুন পর্যালোচনার আওতায় আনা হচ্ছে।এই বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, "আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পেতে কিছু শর্ত থাকে। যার মধ্যে রয়েছে কর অব্যাহতি প্রত্যাহার, কর যৌক্তিকীকরণ, কর আদায় প্রক্রিয়া সহজ এবং কর-জিডিপি হার বাড়ানো। সরকার সংস্থাটির সঙ্গে নতুন করে ঋণচুক্তি করতে যাচ্ছে। এ কারণে সংস্থাটির শর্ত অনুযায়ী রাজস্ব খাতে বেশ কিছু সংস্কার করতে হবে। তবে সংস্কারের সময় দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হবে।"চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া ও বিশ্বব্যাংকের হিসেব পর্যালোচনা করে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, "সরকারের মোট কর অব্যাহতির পরিমাণ জিডিপির প্রায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, বিপরীতে রাজস্ব আদায় প্রায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অতীতে রাজস্ব সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ২০৩০ সালের মধ্যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচির মেয়াদ তার আগেই শেষ হতে পারে। ফলে কর্মসূচির নির্ধারিত সময়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। পাশাপাশি অব্যাহতি প্রত্যাহারে কত অতিরিক্ত রাজস্ব আসবে, তার হিসাবও দেখাতে হবে।"আইএমএফের কাছ থেকে নতুন অর্থায়ন পাওয়ার তাগিদ স্পষ্ট করে সম্প্রতি থাইল্যান্ডে এক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ সহায়তা পেতে হলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঋণের জন্য শর্ত থাকবে এবং তা পূরণও করতে হবে। কিছু বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো হবে।"এনবিআরের নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছাড়ের কারণে বঞ্চিত ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ১.২৯ লাখ কোটি টাকা, যা প্রকৃত আদায়ের চেয়েও বেশি।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗