Published on
:
6 min read
মূল গল্প: ক্লেয়ার দ্য ল্যুন | লেখক: গি দ্য মোপাসাঁ
ভাষান্তর: হিন্দোল ভট্টাচার্য
অ্যাবে মারিনিয়াঁ— এই নামের সঙ্গে তাঁর স্বভাবের আশ্চর্য মিল ছিল। তিনি ছিলেন লম্বা, রোগা এক যাজক— অন্ধ বিশ্বাসে আচ্ছন্ন, সহজেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন, তবু চরিত্রে সোজাসাপ্টা ও নীতিবান। কখনও সেগুলির এ দিক ও দিক হতো না। তিনি আন্তরিক ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, তিনি তাঁর ঈশ্বরকে চেনেন, তাঁর পরিকল্পনা, ইচ্ছা, উদ্দেশ্য সম্বন্ধে অবগত।
নিজের ছোট্ট গ্রামীণ বাড়ির বাগানের পথ ধরে যখন তিনি দীর্ঘ পদক্ষেপে হাঁটতেন, তখন কখনও কখনও নিজেকেই প্রশ্ন করতেন— ‘ঈশ্বর কেন এ কাজটি করলেন?’ তার পর সেই প্রশ্ন নিয়েই দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করতেন। তিনি যেন নিজেকেই ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে তাঁর সিদ্ধান্তের কারণ অনুসন্ধান করতেন এবং প্রায় প্রতিবারই কোনও না কোনও উত্তর খুঁজে পেতেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, ঈশ্বরের অভিপ্রায় তিনি বুঝতে সক্ষম।
তিনি নিজেকে বলতেন, ‘আমি ঈশ্বরের সেবক। তাঁর কর্মের কারণ জানা আমার কর্তব্য, আর যদি তা না-ও জানি, তবে অন্তত অনুমান করার চেষ্টা করা উচিত।’
প্রকৃতির সবকিছুই তাঁর কাছে এক বিস্ময়কর ও পরম যুক্তির ভিত্তিতে নির্মিত বলে মনে হতো। প্রতিটি ‘কেন’ এবং ‘কারণ’ যেন নিখুঁত ভাবে পরস্পরের সঙ্গে মিলে যেত। মানুষের জাগরণকে সুখকর করে তুলতে ভোরের সৃষ্টি হয়েছে, ফসল পাকানোর জন্য রোদ, তাকে সজীব রাখার জন্য বৃষ্টি, নিদ্রার প্রস্তুতির জন্য সন্ধ্যা, আর ঘুমের জন্য অন্ধকার রাত্রি।
কিন্তু তিনি নারীদের ঘৃণা করতেন—অবচেতন ভাবে ঘৃণা করতেন, আর সহজাত প্রবৃত্তিতে তাদের তুচ্ছজ্ঞান করতেন। তিনি প্রায়ই খ্রিস্টের সেই উক্তিটি উদ্ধৃত করতেন— ‘হে নারী, তোমার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক?’— আর তার পর যোগ করতেন, ‘মনে হয় যেন স্বয়ং ঈশ্বরও তাঁর এই সৃষ্টিকে নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না।’
তাঁর চোখে নারী ছিল সেই প্রলোভনস্বরূপা সত্তা, যে প্রথম মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং সেই থেকে অবিরাম সর্বনাশের কাজ করে চলেছে, দুর্বল অথচ বিপজ্জনক এক প্রাণী, যার প্রভাব রহস্যময় এবং অস্বস্তিকর। আর তাদের পাপময় দেহের চেয়েও বেশি তিনি ঘৃণা করতেন তাদের প্রেমময় হৃদয়কে।
নারীদের সেই স্নেহ তিনি বহুবার নিজের প্রতিই নিবেদিত হতে দেখেছিলেন। তিনি জানতেন যে, তিনি তার প্রভাবের ঊর্ধ্বে, তবু তাদের অন্তরে সদা-স্পন্দিত এই ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে ক্রুদ্ধ
করে তুলত।
তাঁর বিশ্বাস ছিল, ঈশ্বর নারীকে সৃষ্টি করেছেন কেবল পুরুষকে প্রলুব্ধ ও পরীক্ষা করার জন্য। তবে সন্ন্যাসিনীদের প্রতি তাঁর কিছুটা সহনশীলতা ছিল, কারণ তাঁদের ব্রত ও প্রতিজ্ঞা তাঁদের নিরীহ করে তুলেছিল। তবুও তাঁদের প্রতিও তিনি কঠোর ছিলেন। কারণ তিনি অনুভব করতেন, তাঁদের সংযত ও বিনীত হৃদয়ের গভীরেও সেই চিরন্তন স্নেহের আগুন জ্বলছে— যে স্নেহের কিছুটা অংশ এমনকী তাঁর প্রতিও নিবেদিত, যদিও তিনি একজন যাজক।
তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময়ে তাঁদের মৃদু কণ্ঠে, নিচু হয়ে আসা দৃষ্টিতে, কিংবা তাঁর কঠোর ভর্ৎসনায় নীরবে গড়িয়ে পড়া অশ্রুতে। আর মঠের দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে আসার সময়ে তিনি যেন নিজের পোশাক ঝেড়ে ফেলতেন, তার পর দ্রুত পদক্ষেপে দূরে সরে যেতেন— যেন কোনও বিপদ থেকে পালিয়ে বাঁচছেন।
তাঁর এক ভাগনি ছিল, যে তার মায়ের সঙ্গে তাঁর বাড়ির কাছেই একটি ছোট্ট ঘরে বাস করত। তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন, মেয়েটিকে দয়ার সেবিকাদের সঙ্ঘের একজন সদস্যা— একজন সন্ন্যাসিনী করে তুলবেন।
মেয়েটি ছিল সুন্দরী, চঞ্চল এবং কিছুটা হালকা মনের। যাজক যখন ধর্মোপদেশ দিতেন, সে হেসে উঠত, আর তিনি যখন তার ওপর রাগ করতেন, তখন সে ছুটে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরত, নিজের বুকের কাছে টেনে নিত। সেই আলিঙ্গন থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করতেন তিনি, কিন্তু অজান্তেই সেই স্পর্শ তাঁকে এক মধুর আনন্দে ভরিয়ে তুলত। তাঁর অন্তরের গভীরে সুপ্ত হয়ে থাকা পিতৃত্ববোধ— যা প্রত্যেক পুরুষের মধ্যেই কোনও না কোনও ভাবে নিদ্রিত থাকে— সেই মুহূর্তে যেন
জেগে উঠত।
গ্রামের পথ ধরে ভাগনির পাশে পাশে হাঁটতে হাঁটতে তিনি প্রায়ই ঈশ্বরের কথা বলতেন— তাঁর ঈশ্বরের কথা। কিন্তু মেয়েটি কখনওই মন দিয়ে শুনত না। সে তাকিয়ে থাকত আকাশের দিকে, ঘাসের দিকে, ফুলের দিকে। আর তার চোখে ঝলমল করত বেঁচে থাকার উচ্ছ্বাস। কখনও হঠাৎ ছুটে যেত কোনও উড়ন্ত প্রাণী ধরতে, তার পর সেটিকে হাতে নিয়ে ফিরে এসে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলত, ‘দেখো তো, মামা, কী সুন্দর! একে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে!’
আর এই ‘জড়িয়ে ধরার’ আকাঙ্ক্ষা— সে যদি একটি মাছি হয়, কিংবা একটি লাইলাক ফুল— যাজককে অস্বস্তিতে ফেলত, বিরক্ত করত, এমনকী উত্তেজিতও করে তুলত। কারণ এর মধ্যেও তিনি দেখতে পেতেন সেই অবিনাশী কোমলতার অঙ্কুর, যা তাঁর বিশ্বাসে নারীর হৃদয়ে চিরকাল ফুটে ওঠে।
এর পর একদিন, অ্যাবে মারিনিয়াঁ-এর গৃহপরিচারিকার কাজ করা গির্জার ঘণ্টাবাদক-এর স্ত্রী অত্যন্ত সতর্ক ভাবে তাঁকে জানাল যে, তাঁর ভাগনির একজন
প্রেমিক আছে।
খবরটি শুনে তিনি এমন ভাবে বিচলিত হয়ে পড়লেন যে, প্রায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গেলেন। তখন তিনি দাড়ি কামাচ্ছিলেন, আর তাঁর মুখ তখনও সাবানে ঢাকা।
কিছুক্ষণ পরে যখন তিনি সামলে উঠে চিন্তা করার ও কথা বলার মতো অবস্থায় এলেন, তখন চিৎকার করে উঠলেন—
‘এটা সত্যি নয়! তুমি মিথ্যে
বলছ, মেলানি!”
কিন্তু গ্রাম্য নারীটি বুকের ওপর হাত রেখে বলল,
‘প্রভু আমার বিচার করুন, যদি আমি মিথ্যে বলে থাকি, মঁসিয়ে ল্য কুরে! আমি আপনাকে বলছি, আপনার বোন ঘুমিয়ে পড়ার পর সে প্রতি রাতেই সেখানে যায়। নদীর ধারে তাদের দেখা হয়। আপনি নিজেই গিয়ে দেখে আসুন— রাত দশটা থেকে বারোটার মধ্যে।’
তিনি থুতনিতে ক্ষুর চালানো বন্ধ করলেন এবং ঘরের একপ্রান্ত থেকে আর একপ্রান্তে অস্থির ভাবে পায়চারি করতে শুরু করলেন— গভীর চিন্তায় পড়লে তিনি সব সময়ে এমনই করতেন। পরে আবার দাড়ি কামাতে বসে উত্তেজনায় এতটাই অমনোযোগী হয়ে পড়লেন যে, নাক থেকে কান পর্যন্ত মুখের একপাশে তিন জায়গায় নিজেকেই কেটে ফেললেন।
সারাদিন তিনি নীরব রইলেন, অন্তরে জমতে থাকল ক্রোধ ও ক্ষোভ। নারীর প্রতি তাঁর যাজকসুলভ ঘৃণার সঙ্গে যুক্ত হলো আরও এক তীব্র আঘাত— একজন আধ্যাত্মিক পিতা, অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে তিনি যেন প্রতারিত হয়েছেন, একটি শিশুর হাতে ছলনার শিকার হয়েছেন।
যখন ঘড়িতে রাত দশটা বাজল, তিনি তাঁর লাঠিটি হাতে তুলে নিলেন— মজবুত ওক কাঠের তৈরি এক ভয়ঙ্কর লাঠি, যা তিনি অসুস্থদের দেখতে রাতে বেরোলে সঙ্গে রাখতেন। শক্তিশালী মুঠিতে সেটিকে ঘুরিয়ে তিনি হুমকির ভঙ্গিতে হাসলেন। তার পর হঠাৎ দাঁত চেপে লাঠিটি একটি চেয়ারের ওপর এমন জোরে আঘাত করলেন যে চেয়ারটির পিঠ ভেঙে মেঝেতে
লুটিয়ে পড়ল।
বাইরে এসে তিনি থমকে দাঁড়ালেন। এত উজ্জ্বল চাঁদের আলো তিনি খুব কমই দেখেছেন। চারদিক যেন অলৌকিক দীপ্তিতে ভরে আছে। এই শান্ত, অপার্থিব রাতের মহিমা ও সৌন্দর্য হঠাৎ তাঁকে আলোড়িত করে তুলল। তাঁর ক্রোধ যেন মুহূর্তের জন্য ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।
ছোট্ট বাগানটি নরম জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছিল। সারিবদ্ধ ফলগাছগুলো মাটির ওপর তাদের সরু ডালপালার ছায়া ফেলেছিল। পাতাগুলো তখনও পুরোপুরি ঘন হয়ে ওঠেনি। আর বাড়ির দেওয়াল বেয়ে ওঠা বিশাল মধুমালতী গাছ মিষ্টি সুগন্ধ ছড়িয়ে দিচ্ছিল, যেন উষ্ণ জ্যোৎস্নাময় বাতাসের মধ্যে কোনও সুগন্ধী আত্মা ভেসে বেড়াচ্ছে।
তিনি গভীর গভীর শ্বাস নিতে লাগলেন, যেন কোনও মাতাল সুরা পান করছে। ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে তিনি মুগ্ধ হয়ে চারপাশ দেখতে লাগলেন। বিস্ময়ে ভরে উঠল তাঁর মন। এমনকী, কিছুক্ষণের জন্য তিনি তাঁর ভাগনির কথাও প্রায় ভুলে গেলেন।
সমগ্র প্রান্তর কোমল চাঁদের আলোয় প্লাবিত। মাঝেমধ্যে শোনা যাচ্ছে ঝিঁঝিঁ পোকার সংক্ষিপ্ত ধাতব সুর, আর দূরে কোথাও বুলবুলি বা নাইটিঙ্গেলের গানের বিচ্ছিন্ন ঝঙ্কার। সেই হালকা, কম্পমান সঙ্গীত মানুষকে চিন্তা নয়, স্বপ্ন দেখতে শেখায়, চুম্বনের জন্য, জ্যোৎস্নার প্রলোভনের জন্য যেন তার জন্ম।
অ্যাবে মারিনিয়াঁ আবার হাঁটতে শুরু করলেন। হঠাৎ তাঁর হৃদয় দুর্বল হয়ে আসতে লাগল, যদিও কেন, তা তিনি বুঝতে পারছিলেন না। নিজেকে অদ্ভুত ভাবে ক্লান্ত ও অবসন্ন মনে হচ্ছিল। তাঁর ইচ্ছে করছিল কোথাও বসে পড়তে, বিশ্রাম নিতে, ভাবতে, আর ঈশ্বরকে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে উপলব্ধি করতে।
দূরে, ছোট্ট নদীটির আঁকাবাঁকা গতিপথ অনুসরণ করে সারি সারি পপলার গাছ এঁকে বেঁকে চলে গেছে। পাহাড়ের চারপাশে এবং নদীর ওপর ভাসছিল সূক্ষ্ম সাদা কুয়াশা। চাঁদের আলো তার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে তাকে রুপোলি দীপ্তিতে ঝলমল করে তুলছিল। মনে হচ্ছিল, স্বচ্ছ আলোর তৈরি কোনও তুলোর আবরণ নদীর সমগ্র বাঁকানো পথটিকে ঢেকে রেখেছে।
তিনি নিজেকে একটি একটি করে সেই প্রশ্নগুলি করতে শুরু করলেন, যা মাঝে মাঝে তাঁর মনে উদয় হতো। ‘ঈশ্বর এটা কেন সৃষ্টি করলেন? যদি রাতের উদ্দেশ্য হয় নিদ্রা, অচেতনতা, বিশ্রাম এবং সব কিছু ভুলে থাকা, তবে তাকে দিনের চেয়ে বেশি মোহনীয়, ভোর বা সন্ধ্যার চেয়েও বেশি কোমল করে তোলার প্রয়োজন কী? আর কেন এই মোহময় গ্রহ চাঁদ, যে সূর্যের চেয়েও বেশি কাব্যময়, যে এত সংযত ও নীরব যে, মনে হয় দিনের আলোর পক্ষে অতিরিক্ত সূক্ষ্ম ও রহস্যময় বিষয়গুলোকেই আলোকিত করার জন্য তার সৃষ্টি, সে অন্ধকারকে এত স্বচ্ছ করে তোলে? কেন সব পাখির মতো শ্রেষ্ঠ গায়ক পাখিটিও ঘুমিয়ে থাকে না? কেন সে এই রহস্যময় রাত্রিতে অবিরাম তার সুর ঢেলে দেয়?’
‘কেন পৃথিবীর ওপর এই আধা-আবরণ বিস্তার করা হয়েছে? কেন হৃদয়ের এই কম্পন, আত্মার এই আলোড়ন, দেহের এই মধুর অবসাদ? কেন এমন সব মোহময়তার আয়োজন, যা মানুষ দেখেই না, কারণ তারা তো নিজেদের শয্যায় নিদ্রিত? কার জন্য এই মহিমান্বিত দৃশ্য? কার জন্য স্বর্গ থেকে পৃথিবীর বুকে ঢেলে দেওয়া হয়েছে এই বিপুল কাব্যরাশি?’
কিন্তু অ্যাবে মারিনিয়াঁ এর কোনও উত্তর খুঁজে পেলেন না। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ল— দূরে, তৃণভূমির কিনারায়, কুয়াশাভেজা আলোকোজ্জ্বল বৃক্ষছায়ার তলায় দু’টি মানুষ পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছে।
পুরুষটি ছিল লম্বা। সে তার প্রিয়ার গলা জড়িয়ে ধরে রেখেছে, আর মাঝে মাঝেই তার কপালে চুম্বন এঁকে দিচ্ছে। তারা যেন একক সত্তা— সেই সত্তা, যার জন্য এই নীরব, শান্ত, জ্যোৎস্নাময় রাত্রির সৃষ্টি। আর তারা ধীরে ধীরে যাজকের দিকে এগিয়ে আসছিল, যেন তাঁর প্রশ্নগুলোর জীবন্ত উত্তর হয়ে, যেন তাঁর প্রভু নিজেই এই দৃশ্যের মাধ্যমে জবাব পাঠিয়েছেন।
তিনি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে উঠল, মন গভীর আলোড়নে ভরে গেল। তাঁর মনে হলো, তিনি যেন কোনও বাইবেলের দৃশ্য দেখছেন— রুথ ও বোয়াজের প্রেমের মতো কোনও পবিত্র মুহূর্ত, ঈশ্বরের ইচ্ছারই এক বাস্তবায়ন, সেই সব গৌরবময় কাহিনির মতো, যেগুলোর কথা পবিত্র ধর্মগ্রন্থে লেখা আছে।
তাঁর কানে যেন ভেসে আসতে লাগল ‘সং অব সলোমন’ বা শ্রেষ্ঠগীত-এর পঙ্ক্তিগুলি— প্রেমের আহ্বান, আকাঙ্ক্ষার সুর, কোমলতায় পূর্ণ সেই অনন্ত কাব্যের সমস্ত মাধুর্য।
আর তখন তিনি নিজেকে বললেন—
‘হয়তো মানুষের প্রেমকে মহিমান্বিত করে তোলার জন্যই ঈশ্বর এমন রাত সৃষ্টি করেছেন।’
তিনি ধীরে ধীরে সরে দাঁড়ালেন, কারণ যুগলটি এখনও পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে তাঁর দিকে এগিয়ে আসছে। তিনি বুঝতে পারলেন, মেয়েটি তাঁরই ভাগনি। কিন্তু এ বার তাঁর মনে ক্রোধ জাগল না। বরং তিনি নিজেকে প্রশ্ন করলেন— এই প্রেমে
বাধা দিয়ে তিনি কি ঈশ্বরেরই অবাধ্যতা করবেন না?
এই ভাবনায় নিমগ্ন হয়ে তিনি ফিরে চললেন। তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি যেন এমন এক মন্দিরে অনধিকার প্রবেশ করেছিলেন, যেখানে প্রবেশ করার কোনও অধিকার তাঁর ছিল না। আর সেই উপলব্ধিতে তিনি লজ্জিত বোধ করছিলেন।
