কোনো ডেটা সেন্টারের সহায়তা ছাড়াই স্মার্ট টিভি ও ফ্রিজের মতো দৈনন্দিন গৃহস্থালি পণ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলগুলো খুব দ্রুত স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিলিপি তৈরি (সেলফ-রেপ্লিকেট) শুরু করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের গবেষকেরা।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গবেষকরা জানান, বাসা-বাড়ি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ব্যবহৃত ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ (আইওটি) ডিভাইসে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে ছোট এআই মডেলগুলোর ‘মাত্র কয়েক মাস সময় লাগতে পারে’।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে তৈরি একাধিক এআই মডেল নিয়ে অ্যানথ্রপিকের ‘ফ্রন্টিয়ার রেড টিম’ এই গবেষণা চালায়। তারা জানায়, এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় এআই ছড়িয়ে পড়লে কোনো কেন্দ্রীয় হোস্ট বা সার্ভার না থাকায় তা বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
গবেষক দলের মতে, ক্ষতিকর ‘এআই ওয়ার্ম’-এর জন্য ডেটা সেন্টারগুলো স্পষ্টতই উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তু। তবে ইন্টারনেট-সংযুক্ত স্মার্ট টিভি, রেফ্রিজারেটর, ওভেন কিংবা ঘাস কাটার যন্ত্রের মতো ডিভাইসগুলোতেও শিগগিরই স্বয়ংক্রিয় প্রতিলিপির জন্য পর্যাপ্ত কম্পিউটিং ক্ষমতা থাকবে।
পরীক্ষায় ব্যবহৃত কোনো স্মার্ট টিভিতে এখনো সফলভাবে এআই মডেলের নির্ভরযোগ্য প্রতিলিপি তৈরি সম্ভব হয়নি। তবে প্রযুক্তির বর্তমান অগ্রগতির ধারা বজায় থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এমন মডেলের আত্মপ্রকাশ নিশ্চিতভাবেই ঘটবে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।
গবেষক উইলিয়াম ঝৌ ও ড্যানিয়েল ফ্রিম্যান বলেন, ‘ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ার কারণে বাসা-বাড়ি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার আইওটি ডিভাইসগুলোই এ ধরনের আক্রমণের প্রথম শিকার হতে পারে।’
তারা আরও জানান, ভবিষ্যতে এমন অনেক স্বচালিত এআই এজেন্ট ছড়িয়ে পড়বে যা মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অ্যানথ্রপিকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি এআই প্রযুক্তির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি ও অনুমোদনহীন সাইবার হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অ্যানথ্রপিক ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে উন্নয়ন প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানালেও বিশ্বনেতৃত্ব—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাতে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।
ইউনিভার্সিটি অব লুইভিলের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রোমান ভি ইয়ামপোলস্কি আল জাজিরাকে বলেন, ‘সাধারণ কম্পিউটার ওয়ার্ম নতুন নয়। তবে এআই ওয়ার্ম সম্পূর্ণ অপরিচিত ডিভাইস নিয়ে ভাবতে পারে, ব্যর্থ হলে পথ বদলাতে পারে এবং কোনো মানব পরিচালনাকারী ছাড়াই বিস্তার ঘটাতে পারে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, এটি এখনই অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি না হলেও উদ্বেগের বিষয়। কারণ, স্বয়ংক্রিয় প্রতিলিপির সঙ্গে হ্যাকিং ও কৌশলগত যুক্তি যুক্ত হলে একক কোনো নিয়ন্ত্রণকারী না থাকায় এ ব্যবস্থা থামানো কঠিন হবে।
গত মাসে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ‘বাধ্যতামূলক নয়’ এমন চুক্তিতে অংশ নিলেও, বিশেষজ্ঞরা এর কার্যকারিতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এদিকে সোমবার পৃথক এক ঘোষণায় অ্যানথ্রপিক জানায়, ‘ডিস্টিলেশন অ্যাটাক’ ঠেকানোর ক্ষেত্রে তারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ ধরনের হামলায় অত্যাধুনিক এআই ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া তুলনামূলক কম সক্ষম ও সস্তা মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
চীনের ডিপসিক, মুনশট ও মিনিম্যাক্স তাদের ক্লড এআই মডেল থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে নিজেদের মডেল তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছে অ্যানথ্রপিক। এ ধরনের অননুমোদিত তথ্য সংগ্রহ ঠেকাতে নেওয়া ব্যবস্থায় তথ্য চুরির পরিমাণ ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র: আল-জাজিরা
The post স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিলিপি তৈরি শুরু করতে পারে এআই appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
