Authored By:
Published on
:
2 min read
এই সময়: নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার প্রার্থিতালিকা চূড়ান্ত করতে চায় বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীপক্ষ কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে? আসন্ন পুরভোট নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল এখনও আনুষ্ঠানিক বৈঠক না–করলেও কিছুটা সন্তর্পণে ও নিশ্চুপে কালীঘাট শিবির প্রস্তুতি শুরু করেছে। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার গত বোর্ডের হেভিওয়েট জোড়াফুল কাউন্সিলারদের বড় অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূলে। কলকাতায় প্রাক্তন জোড়াফুল কাউন্সিলাদের একাংশ দুই এনসিপিআই সাংসদ, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মালা রায়ের সঙ্গে রয়েছেন বলেই কালীঘাটের পর্যবেক্ষণ।
এই প্রেক্ষাপটে ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় কলকাতায় নিচুতলার যে নেতা–কর্মীরা টিকিট পাওয়া তো দূরের কথা, ক্ষমতার মূল বৃত্তে ছিলেন না—তাঁদের প্রার্থী করতে চাইছে মমতা তৃণমূল। একই সঙ্গে গত পাঁচ মাসে কলকাতায় রাস্তায় নেমে মিছিল করা একদল নতুন মুখকেও প্রার্থী করার পরিকল্পনা রয়েছে। মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘এমন অনেক সিনিয়র নেতা–কর্মী রয়েছেন যাঁরা মর্যাদা পাননি। তাঁরা এখন–ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন। নতুন প্রজন্মের অনেকেই কাজ করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথা সময়ে এই বিষয়ে জানাবেন।’
দুর্গাপুজোর মধ্যে কুণাল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনা করেছিলেন। দিল্লিতে ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে মমতা কংগ্রেস হাইকমান্ডের পাশে বসে বৈঠক করেছেন। কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটে কালীঘাটের সঙ্গে বিধানভবনের কোনও সমঝোতা হবে কি? কুণালের বক্তব্য, ‘এই বিষয়ে এখনই মন্তব্য করছি না। আমরা বলছি, বাংলার মানুষের স্বার্থে বিজেপির বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে হবে। ইন্ডিয়া ব্লকের বঙ্গীয় প্রতিফলন অথবা মহানগরীয় প্রতিফলনে যাঁরা বিশ্বাসী, তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন।’ যদিও কংগ্রেসের তরফে কলকাতা ও হাওড়া পুরভোট নিয়ে সেই ভাবে আলোচনা এখনও শুরু হয়নি।
মমতা তৃণমূল শেষ পর্যন্ত হাত ধরবে কি না, তা স্পষ্ট হতে আরও সময় লাগার সম্ভবনা তৈরি হলেও অরূপ রায়, ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্তে অনড়। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদারের এনসিপিআই–র সঙ্গে কোনও জোট করতে নারাজ গণতান্ত্রিক তৃণমূল। মেট্রোপলিটনের দপ্তরে শুক্রবার ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, মদন মিত্র, শিউলি সাহা প্রমুখ নেতাদের উপস্থিতিতে পুরভোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অরূপ রায়ের বক্তব্য, ‘এনসিপিআই–র সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। এনসিপিআই আলাদা পার্টি। বিজেপির সঙ্গে ওঁরা মার্জ করেছেন। আমরা একাই লড়ব। কোনও জোট করব না।’ ফিরহাদের কথায়, ‘কলকাতা পুরবোর্ড কাদের হাতে যাবে মানুষ ঠিক করবে। তবে আমরা একা লড়াই করব।’ যদিও সামান্য ভিন্নসুরে মদন মিত্র বলেছেন, ‘তৃণমূলের আলটিমেট নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি আশা করেছিলাম তিনি বলবেন, এসো সব তৃণমূল একসঙ্গে লড়াই করি।’ যদিও মদনের কথাকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে না কালীঘাট। কুণালের কথায়, ‘ওঁদের মধ্যে স্ববিরোধিতা তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। সাত–আটজন ছাড়া বাকিদের ভয় দেখিয়ে ওই শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁরা মনে থেকে ওখানে নেই।’
মমতা তৃণমূলের দাবি, মেট্রোপলিটনে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের বৈঠকে সাকুল্যে চার জন প্রাক্তন কাউন্সিলার ছিলেন। কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে বামফ্রন্টের কোন শরিক দল কতগুলি ওয়ার্ডে লড়াই করবে এটা চূড়ান্ত না হলেও সিপিএম মোটামুটি ঠিক করে নিয়েছে কোন কোন ওয়ার্ডে তাঁরা প্রার্থী দেবে। সেই অনুযায়ী প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছেন সিপিএমের কলকাতা জেলা নেতৃত্ব। বাম শরিক এবং সিপিআইএমএল (লিবারেশন) মিলিয়ে খুব বেশি হলে ৫০টি ওয়ার্ড ছাড়তে চাইছে সিপিএম। যদিও কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার পরিস্থিতি তৈরি হয় তা হলে অবশ্য সিপিএম আরও কম আসনে প্রার্থী দিতে তৈরি।
