আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিটিং জজের পরিবর্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কমিটির রিপোর্ট রাজ্য সরকার গ্রহণ করবে। সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ১৭টি পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক এবং যোগ্যদের চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। কল্পনা জানার দুই সন্তানের অভিভাবক হিসেবেও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে চেক নিতে অস্বীকার করা হলেও, পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই অর্থ সন্তানদের নামে সুরক্ষিত রাখা হবে।
রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ রামনগরের বিধায়ক কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর চোরবাগানে দুর্ঘটনায় মৃত কল্পনা জানার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন এবং সমবেদনা জানান।
এদিন কোজাগরী লক্ষ্মীপূর্ণিমা উপলক্ষে রাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার কামনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান কেনার ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই কুইন্টালপ্রতি ২০০ টাকা অতিরিক্ত দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আসবে বলে আশাপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দেশ-বিদেশের শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং ইতিমধ্যে ৩৩টি শিল্পগোষ্ঠীকে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। আগ্রহী অন্যান্য শিল্পগোষ্ঠীর প্রস্তাব খতিয়ে দেখে জমি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের উপরেও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আইআইটির সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি আদানি গোষ্ঠী বা এ ধরনের সংস্থাগুলির উদ্যোগেও দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ এবং ক্যাম্পাসিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
পশ্চিম মেদিনীপুরে পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ৫০০ জন নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিতে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৬ বছরের কম বয়সি পড়ুয়াদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা করা উচিত। তার ব্যবস্থাও হবে। শিক্ষা দপ্তরের পক্ষে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের দেওয়া ১০ হাজার টাকা, সেই টাকায় মোবাইল কিনছে, তার পরিবর্তে শিক্ষার কাজে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ট্যাব কেনার জন্য ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
স্কুলে পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা, এনএসএস, ব্রতচারী ও এনসিসির মতো কার্যক্রম চালু করা এবং সহপাঠক্রমিক সাংস্কৃতিক শিক্ষার উপরেও গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবলা, হারমোনিয়াম, খঞ্জনি, সেতার, গিটার ও মৃদঙ্গের মতো বাদ্যযন্ত্রের চর্চা বিদ্যালয়ে বাড়ানোর পক্ষে মত প্রকাশ করেন তিনি।
এনসিসির গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণ পড়ুয়াদের ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অগ্নিবীরের মতো নিয়োগ প্রক্রিয়ায়, সুবিধা দিতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিগত সরকারের ভূমিকা নিয়ে এদিন সমালোচনাও করেন তিনি।
বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর শিল্পকর্ম, সৃষ্টিশীল অবদান এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
