ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নিখোঁজের চার দিন পর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে রত্না দাস (৩০) নামে এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের পর তাকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রত্না দাস খাগালিয়া গ্রামের কুড়ের হাটির সুশীল দাসের স্ত্রী। তিনি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মধ্যপাড়ার মহল্লাল দাসের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর রাতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রত্না দাস। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন নাসিরনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার স্বামী সুশীল দাস।
বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশের পুকুরে একটি বস্তু ভাসতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। এ সময় তারা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক নারীর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশ ও স্বজনদের খবর দেন। পরে স্বজনরা লাশটি রত্না দাসের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের চাচাতো দেবর বলরাম দাস বলেন, রত্না ঘরে একা ঘুমাতেন। দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। পরে ঘরে থাকা রশি ও পাথর দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের স্বামী সুশীল দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ কারণে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নিহতের মামা বিনোদ দাস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, ‘আমার ভাগ্নিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুবেল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের খবর পেয়েছেন তিনি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
