ভালোবেসে বাড়ির অমতে প্রথমে বিয়ে। পরে সেই বিয়ে মেনে নেয় পরিবার। ওই দম্পতির দুই সন্তানও রয়েছে। বাড়িতেই উদ্ধার হল ওই গৃহবধূর রক্তাক্ত মৃতদেহ, পলাতক স্বামী। বোধনের আগের দিন পঞ্চমীতেই বিদায় গৃহবধূর! হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির চুঁচুড়ায়। মৃতার নাম সানন্দা বারিক। তাঁর স্বামী মোহন বারিকের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, সানন্দার পিসির ভাসুরের ছেলে মোহন, বাড়ি ওড়িশার বালুসাই এলাকায়। বছর ১৩ আগে বাড়ির অমতে তাকেই বিয়ে করেছিলেন সানন্দা। সানন্দার বাবা মনোজ ভদ্র সিআরপিএফে কর্মরত ছিলেন। তিনি মেয়ের এই স্বেচ্ছায় বিয়ের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি তিনি। যদিও কয়েক মাস পরে সেই সমস্যা কেটে যায়। পরে বিয়ে মেনে নিয়ে পরিবারের তরফে অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছিল। ওই দম্পতির দুই পুত্র ও কন্যা রয়েছে।
পরিবার ও আত্মীয়স্বজন সূত্রে জানা গিয়েছে, ছেলেমেয়েদের নিয়ে সানন্দা ও মোহন বছর পাঁচেক আগে প্রতাপপুর এলাকার ওই বাড়িতে ঘরভাড়া নিয়েছিলেন। মোহন একটি শাড়ি সংস্থার সেলস বিভাগে কাজ করতেন। প্রায় প্রতিদিনই কলকাতার বড়বাজারে তিনি যেতেন। মোহনের সঙ্গে সানন্দাও মাঝেমধ্যে বড়বাজার যেতেন বলে খবর। মঙ্গলবারও স্বামীর সঙ্গে বড়বাজারে গিয়েছিলেন সানন্দা। সেদিন রাতে মোবাইলে তাঁর সঙ্গে বাবার কথাও হয়েছিল বলে মৃতার পরিবার সূত্রে খবর। বুধবার থেকে মেয়ের কোনও খোঁজ মিলছিল না। ঘরের দরজায় বাইরের থেকে তালা ঝুলছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পরেও ওই ঘরে একইভাবে তালা ঝুলতে থাকে। সেই দেখে সন্দেহ হয় বাড়ির মালিকের। ঘরের অর্ধেক ভেজানো জানলায় ভিতরে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, মেঝের মধ্যে এক মহিলার দেহ পড়ে রয়েছে। সেই ঘটনা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। চুঁচুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের দরজা খুলে ভিতরে ঢোকে। দেখা যায়, ঘরের মেঝেয় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সানন্দার মৃতদেহ। মাথার কাছের মেঝেয় চাপ চাপ রক্ত শুকিয়ে গিয়েছে। গোটা মুখ ফুলে নীল হয়ে গিয়েছে। পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই খোঁজ মিলছে না স্বামী মোহনের। শুধু তাই নয়, মোবাইল ফোনও বন্ধ। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তেমন কোনও অশান্তি হত না বলেই খবর। তাহলে কীভাবে এমন হাড়হিম করা ঘটনা ঘটল? মৃতার বাপেরবাড়ির তরফে অভিযোগ, মেয়েকে জামাই খুন করেছে। পুলিশ পলাতক মোহনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
