নিজস্ব প্রতিবেদক · ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১:১৬ অপরাহ্ন
সিলেটের স্টেশন ক্লাবে সদস্যদের মধ্যে প্রায় এক বছর আগের হাতাহাতির ঘটনায় নতুন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) ক্লাবের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরপরই ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের হাতাহাতির পুরোনো একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ক্লাবের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্লাবের কালচারাল রুমে আড্ডার সময় সদস্য সায়েক খান ও আব্দুল্লাহ আহমদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তর্ক হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। এ সময় চেয়ার নিয়েও মারামারি হয়। বিবাদ থামাতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ সদস্য মাহবুব আহমদ মাটিতে পড়ে যান। পরে অন্য সদস্যরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
ঘটনার সময় ক্লাবের সদস্য জাকির আহমদ ভিডিও ধারণ করেন। পরদিন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। পরে ভিডিওর সূত্র ধরে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে।
ক্লাবের বর্তমান দায়িত্বশীলদের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত সোমবারের সভায় সায়েক খান ও ভিডিও ধারণকারী জাকির আহমদকে বিভিন্ন মেয়াদে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে হাতাহাতির ঘটনায় জড়িত অপর সদস্য আব্দুল্লাহ আহমদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিষয়ে সাবেক সভাপতি শাহ মোশাহিদ আলীকে সতর্ক করা হয়েছে।
নতুন করে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন সাবেক সভাপতি শাহ মোশাহিদ আলী। তার দাবি, সভাপতি থাকাকালে তিনি এ ঘটনার বিচার করেছিলেন। একই ঘটনায় দ্বিতীয়বার শাস্তি দেওয়া গঠনতন্ত্রবিরোধী। সে সময় একজন সদস্যকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ক্লাবের পরিচালক (ফাইন্যান্স) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আগের সভাপতি গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেননি। তাই বর্তমান কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালের নির্বাচনে সভাপতি পদে সায়েকুর রহমান সাক্কু ও শাহ মোশাহিদ আলী সমান ভোট পেয়েছিলেন। পরে দুজনকে ছয় মাস করে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত হয়। শাহ মোশাহিদ আলী পদত্যাগ করার পর সাক্কু দায়িত্ব নিলে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও বাড়ে। ক্লাবের ব্যাংক হিসাব বন্ধ থাকা নিয়েও উচ্চ আদালতে মামলা চলছে।
এদিকে হাতাহাতির পুরোনো ভিডিওটি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
ক্লাবের সভাপতি সায়েকুর রহমান সাক্কু বলেন, ‘ঘটনাটি এক বছর আগের। গেল সোমবার (১৯ অক্টোবর) তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। তবে এতদিন পর কী কারণে বা কী উদ্দেশ্যে পুরোনো ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে, তা আমার বোধগম্য নয়।’
এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
