চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সন্দেহজনক আমদানি চালান হিসেবে চিহ্নিত করে কায়িক পরীক্ষার জন্য লক করা একটি কনটেইনার জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এনবিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কাস্টমসের মূল সিল ভেঙে ভুয়া সিল লাগানোর পাশাপাশি বদলি হয়ে যাওয়া একাধিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে কনটেইনারটি বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এ ঘটনায় পুরান ঢাকার চকবাজারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কাফ করপোরেশন ও তাদের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
এনবিআর জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর কনটেইনারটি নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে চালানটির বিষয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। নির্ধারিত কায়িক পরীক্ষার আগেই বিল অব লেডিংয়ে (বি/এল) থাকা কাস্টমসের মূল সিল ভেঙে সেখানে অন্য একটি ভুয়া সিল লাগিয়ে কনটেইনারটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘটনাটিকে আমদানি কার্যক্রমে বিরল জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে কমিটি কাজ করছে। দ্রুতই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পণ্যটি চীন থেকে এসেছে। এ জালিয়াতির সঙ্গে রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কিংবা বন্দর বা কাস্টমসের ভেতরে থাকা কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
কাস্টমসের সিলের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমদানি করা পণ্যবাহী প্রতিটি কনটেইনারের জন্য কাস্টমসের নির্দিষ্ট ইউনিক লক নম্বর থাকে। বিল অব লেডিংয়ের তথ্যের সঙ্গে ওই নম্বর মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট কনটেইনারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। কায়িক পরীক্ষার সময় অসংগতি ধরা পড়ায় এ জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে।
ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং কীভাবে কাস্টমসের নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে কনটেইনারটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।
এনামুল হক নাবিদ/এসএইচএ
