যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন কেটি জাকারিয়া। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অপ্রস্তুত উপস্থিতি এবং আইনজীবী হিসেবে তার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের জেরে তার বিদায়ের খবর সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাকারিয়ার বিদায়ের খবর প্রকাশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি জানান, দায়িত্বটি চালিয়ে যেতে চান কি না, সে বিষয়ে জাকারিয়ার সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, তিনি জাকারিয়াকে জানিয়েছিলেন, এই কাজ করতে না চাইলে তাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে না। এমনকি নিজের জায়গায় থাকলে বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন জাকারিয়া। সংবাদ সম্মেলনটি প্রায় ১৪ মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময় তাকে নার্ভাস দেখাচ্ছিল বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। তিনি নোটবুক থেকে লিখিত বক্তব্য পড়েন এবং সাংবাদিকদের অল্প কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন। একপর্যায়ে নিজের স্বামীকে প্রেসিডেন্ট বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এরপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কঠিন প্রশ্নের মুখে নিজের যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয় তাকে। শুক্রবার মেরিন ওয়ানের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সংবাদমাধ্যম জাকারিয়ার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। তাকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাকারিয়ার বিদায়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হওয়ার কথা। এর আগে হোয়াইট হাউসের এই ঘটনা রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা হাকিম জেফরিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি চলে যাচ্ছেন। মাগা উগ্রপন্থীরা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে।’
জাকারিয়ার আইন পেশার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই। ট্রাম্পসহ কয়েকজন তাকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশায় কাজ করতে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অনুমোদন নিতে হয়।
এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যে তিনি আইনজীবী হিসেবে সনদ পাওয়ার পরীক্ষা দিয়েছেন। জবাবে জাকারিয়া বলেন, ‘আমি যখন চীনে ছিলাম।’ তার এই উত্তর নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দেয়।
পরে বৃহস্পতিবার জাকারিয়া স্বীকার করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, চীনে যথাযথ যোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনসংক্রান্ত আইনি কাজ করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সাক্ষাৎকারেও প্রশ্নের মুখে পড়েন জাকারিয়া। বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ার কথা জানালে হ্যানিটি তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি সরাসরি কেন বলেননি যে কখনো আইন পেশায় কাজ করেননি।
জবাবে জাকারিয়া জানান, প্রথম সংবাদ সম্মেলনের এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর হ্যানিটি জানতে চান, দায়িত্ব পালনের আগে তাকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা উচিত ছিল কি না।
শুক্রবার ফক্স নিউজের অনুষ্ঠান ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এও একই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েন জাকারিয়া। তিনি বলেন, নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় না দেওয়ার বিষয়টি ট্রাম্পকে আলাদাভাবে জানাননি, কারণ এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়নি। তার দাবি, আইনি দায়িত্ব পালনের জন্য নয়, যোগাযোগসংক্রান্ত কাজের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক লরেন্স জোনস জানতে চান, প্রেসিডেন্টের আস্থা এখনো তার ওপর রয়েছে বলে তিনি মনে করেন কি না। সরাসরি উত্তর না দিয়ে জাকারিয়া বলেন, আশপাশের সবার আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন।
ট্রাম্পের বর্তমান হোয়াইট হাউসে জাকারিয়ার বিদায় প্রেস টিমের সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১০ দিন দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেছিলেন।
