বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পের সামনে এখন একাধিক চ্যালেঞ্জ। কাগজ ও মুদ্রণব্যয় বৃদ্ধি, বইয়ের বাজারের সীমাবদ্ধতা, পাঠাভ্যাসের পরিবর্তন এবং বই বিপণনের নানা সংকট প্রকাশকদের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, নতুন লেখক তৈরি, মানসম্পন্ন বই প্রকাশ এবং সারা দেশে পাঠকের কাছে বই পৌঁছে দেওয়ার কাজও থেমে নেই। প্রতিবছর অমর একুশে বইমেলাকে ঘিরে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের মধ্যে যে আগ্রহ তৈরি হয়, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এ দেশে বইয়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ এখনো রয়েছে। কিন্তু সেই আগ্রহকে সারা বছরের নিয়মিত পাঠাভ্যাস ও বই কেনার সংস্কৃতিতে রূপান্তর করা যাচ্ছে কতটা?
প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত মানুষের অভিজ্ঞতায় একটি বিষয় স্পষ্ট, বই প্রকাশের আগ্রহ থাকলেই একটি সুস্থ বইয়ের বাজার তৈরি হয় না। প্রয়োজন নিয়মিত বই কেনেন এমন পাঠক, বই কেনার সামর্থ্য, সহজলভ্য বিতরণব্যবস্থা এবং মানসম্পন্ন প্রকাশনার প্রতি মানুষের আস্থা। বইমেলায় পাঠকের ভিড় গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু প্রকাশনা শিল্পের স্থায়িত্ব নির্ভর করে সারা বছর বইয়ের চাহিদা ও বিক্রির ধারাবাহিকতার ওপর। একটি বই প্রকাশের পেছনে লেখক, সম্পাদক, প্রচ্ছদশিল্পী, মুদ্রণকর্মী, প্রকাশক ও বই বিক্রেতার শ্রম জড়িয়ে থাকে। বই বিক্রি প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছালে এই পুরো ব্যবস্থাই চাপের মুখে পড়ে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা, শিক্ষার বিস্তার এবং তরুণ প্রজন্মের আকার বিবেচনা করলে সৃজনশীল বইয়ের বাজার সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, তরুণ চাকরিপ্রার্থী, পেশাজীবী ও সাধারণ পাঠকের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করা গেলে প্রকাশনা শিল্পের পরিসর অনেক বড় হতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে জানতে হবে, মানুষ কেন বই পড়েন, কেন পড়েন না, কী ধরনের বই কিনতে চান এবং বই কেনার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রধান বাধাগুলো কী।
এই প্রশ্নগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পাঠাভ্যাসের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। বইয়ের বাজারের সংকট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শুধু প্রকাশনার সংখ্যা, মুদ্রণব্যয় কিংবা বিক্রির হিসাব দেখলে চলবে না। একই সঙ্গে দেখতে হবে, দেশে নিয়মিত বই পড়েন এমন মানুষের সংখ্যা কত, একজন পাঠক বছরে গড়ে কয়টি বই পড়েন এবং নতুন পাঠক তৈরির ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগার কতটা ভূমিকা রাখছে।
বছর দুয়েক আগে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান এই আলোচনাকে সাহায্য করতে পারে। সিইওওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের ২০২৪ সালের দেশভিত্তিক পাঠাভ্যাসের তালিকায় ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দেখানো হয়েছে ৯৭তম। ওই তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশে একজন মানুষ বছরে গড়ে ২.৭৫টি বই পড়েন এবং বই পড়ার পেছনে ব্যয় করেন ৬২ ঘণ্টা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বছরে গড়ে ১৭টি বই পড়া এবং ৩৫৭ ঘণ্টা সময় ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে বইয়ের সংখ্যা ১৬টি এবং বার্ষিক পাঠসময় ৩৫২ ঘণ্টা।
পরিসংখ্যানটি বাংলাদেশের পাঠাভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে এর ভিত্তিতে দেশের সব মানুষের বই পড়ার অভ্যাস সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক তালিকাটির নমুনা নির্বাচন, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং দেশভিত্তিক হিসাবের ভিত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই করা প্রয়োজন। একাধিক সংবাদমাধ্যমে একই পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়া মানেই সেটি একাধিক স্বাধীন গবেষণায় নিশ্চিত হয়েছে, এমন নয়। তাই এই সংখ্যাগুলোকে একটি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জরিপের ফল হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিসংগত।
তারপরও প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পাঠাভ্যাস নিয়ে কি আমাদের কাছে হালনাগাদ, নির্ভরযোগ্য ও প্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় জরিপ রয়েছে? শহর ও গ্রামের মানুষের বই পড়ার অভ্যাস কি একই রকম? শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, নারী-পুরুষ এবং বিভিন্ন বয়সের পাঠকদের মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য রয়েছে? মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ই-বুক, অডিওবুক ও অনলাইনে দীর্ঘ লেখা পড়ার প্রবণতা কতটা বিস্তৃত? এসব প্রশ্নের উত্তর জানা ছাড়া পাঠাভ্যাসের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।
বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে পরিবার থেকে। শিশুরা বড়দের আচরণ দেখে শেখে। পরিবারের সদস্যরা যদি নিয়মিত বই পড়েন, বই নিয়ে আলোচনা করেন এবং শিশুদের বয়স উপযোগী বই উপহার দেন, তাহলে ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার জন্য কতটা উৎসাহ দেওয়া হয়, তা ভেবে দেখা দরকার। পরীক্ষায় ভালো ফল করার চাপের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীর কাছে বই মানেই পাঠ্যসূচি, নোট ও পরীক্ষার প্রস্তুতি। আনন্দের জন্য পড়া, নিজের আগ্রহে নতুন বিষয় জানা কিংবা কল্পনার জগতে প্রবেশ করার অভ্যাস তৈরির সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত থেকে যায়।
এখানে বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর গ্রন্থাগার, নিয়মিত বই পড়ার সময়, পাঠচক্র, বই নিয়ে আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের পছন্দমতো বই বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। গ্রন্থাগার যেন কেবল আনুষ্ঠানিক একটি কক্ষ হয়ে না থাকে। সেখানে শিশু-কিশোরদের উপযোগী গল্প, উপন্যাস, বিজ্ঞান, প্রকৃতি, ইতিহাস, জীবনী ও ভ্রমণবিষয়ক বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহ থাকা দরকার। বই পড়াকে আনন্দ ও আবিষ্কারের অভিজ্ঞতা হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে।
পাঠাভ্যাস বৃদ্ধিতে গণগ্রন্থাগারগুলোর ভূমিকাও নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রন্থাগারকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। নিয়মিত নতুন বই সংগ্রহ, শিশু-কিশোরদের জন্য পাঠ কার্যক্রম, বই আলোচনা, লেখক-পাঠক সংযোগ এবং ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের উদ্যোগ বইকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। শুধু গ্রন্থাগার নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেখানে মানুষ নিয়মিত যাচ্ছেন কি না, কী ধরনের বই পড়ছেন এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী বই সরবরাহ করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
অন্যদিকে, বইয়ের দাম ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সম্পর্কও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কাগজ, মুদ্রণ, বাঁধাই, পরিবহন ও বিপণনের খরচ বেড়ে গেলে বইয়ের দাম বাড়ে। এতে পাঠকের একটি অংশের জন্য বই কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রকাশকের পক্ষেও মানসম্পন্ন বই প্রকাশের ব্যয় বহন করা ক্রমেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। ফলে বইয়ের বাজার সম্প্রসারণের জন্য একদিকে উৎপাদন ও বিতরণব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করতে হবে, অন্যদিকে পাঠকের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
প্রকাশনা শিল্পকে টেকসই করতে হলে নিয়মিত বই কেনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বই কেনাকে বিশেষ উপলক্ষের অভ্যাস থেকে বের করে দৈনন্দিন সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। পরিবারে বই কেনার জন্য নির্দিষ্ট বাজেট রাখা, জন্মদিন বা অন্যান্য উপলক্ষে বই উপহার দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইমেলা আয়োজন এবং কর্মক্ষেত্রে ছোট গ্রন্থাগার গড়ে তোলার মতো উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। অনলাইন বই বিপণন, ডিজিটাল প্রচার নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করে।
এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদেরও পাঠকের পরিবর্তিত চাহিদা বুঝতে হবে। শিশু-কিশোরদের জন্য আকর্ষণীয় ও মানসম্পন্ন বই, তরুণদের আগ্রহের বিষয়, বিজ্ঞানমনস্ক ও অনুসন্ধানমূলক লেখা, ইতিহাস ও জীবনী, সমকালীন সাহিত্য এবং ব্যবহারিক জ্ঞানভিত্তিক বইয়ের প্রকাশনা আরও বিস্তৃত হতে পারে। বইয়ের বিষয়বস্তু, সম্পাদনা, প্রচ্ছদ, উৎপাদনমান ও মূল্য নির্ধারণে পাঠকের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। একই সঙ্গে নতুন লেখকদের জন্য সুযোগ তৈরি এবং বইয়ের বিপণনকে পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করাও জরুরি।
ডিজিটাল মাধ্যমকে বইয়ের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখারও প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মনোযোগের বড় অংশ দখল করে রাখলেও এসব মাধ্যম বইয়ের প্রচার, পাঠ-পর্যালোচনা, লেখক পরিচিতি এবং পাঠক গোষ্ঠী তৈরিতে কার্যকর হতে পারে। ই-বুক ও অডিওবুকের মতো মাধ্যমের বিকাশও পাঠের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তবে ডিজিটাল পাঠের বিস্তার কতটা, তা অনুমান দিয়ে নয়, গবেষণার মাধ্যমে জানা প্রয়োজন। মুদ্রিত বই ও ডিজিটাল পাঠকে পরস্পরের বিকল্প না ভেবে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির পরিপূরক মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
পাশাপাশি বইয়ের কপিরাইট রক্ষা এবং পাইরেসি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। অনুমতি ছাড়া বই পুনর্মুদ্রণ বা ডিজিটাল কপি বিতরণ লেখক ও প্রকাশকের ন্যায্য আয় ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে কপিরাইট সুরক্ষার পাশাপাশি বইয়ের বৈধ ও সাশ্রয়ী সংস্করণ পাঠকের কাছে সহজলভ্য করার ব্যবস্থাও থাকা দরকার। লেখকের স্বত্ব, প্রকাশকের বিনিয়োগ এবং পাঠকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারলে বইয়ের বাজারের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে উঠবে।
বাংলাদেশে পাঠাভ্যাস নিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় জরিপ এখন সময়ের দাবি। এতে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। বছরে কতটি বই পড়া হয়, কত সময় পড়া হয়, কী ধরনের বই পছন্দ করা হয়, কত বই কেনা হয় এবং গ্রন্থাগার ব্যবহারের সুযোগ কতটা রয়েছে, এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল পাঠের হিসাবও আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত। নিয়মিত বিরতিতে একই পদ্ধতিতে জরিপ পরিচালিত হলে পাঠাভ্যাসের পরিবর্তন এবং বিভিন্ন উদ্যোগের কার্যকারিতা পরিমাপ করা সম্ভব হবে।
এই গবেষণা শুধু নীতিনির্ধারকদের জন্য নয়, প্রকাশক, লেখক, বই বিক্রেতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও প্রয়োজনীয়। পাঠকের প্রকৃত চাহিদা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে প্রকাশকেরা বই প্রকাশের পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মতভাবে করতে পারবেন। গ্রন্থাগারগুলো পাঠকের আগ্রহ অনুযায়ী বই সংগ্রহ করতে পারবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও শিক্ষার্থীদের বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ কার্যক্রম সাজাতে পারবে। ফলে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির উদ্যোগ বিচ্ছিন্ন কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পের সামনে সংকট যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে সম্ভাবনাও। বিপুল জনসংখ্যা, তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার বিস্তার এবং বাংলা ভাষায় জ্ঞান ও সাহিত্যচর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্য বইয়ের বাজার সম্প্রসারণের ভিত্তি হতে পারে। প্রয়োজন সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ। সরকারকে গ্রন্থাগার ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির কর্মসূচিতে গুরুত্ব দিতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আনন্দময় পাঠচর্চার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, প্রকাশকদের মানসম্পন্ন বই সহজলভ্য করতে হবে এবং পরিবারকে শিশুদের বইয়ের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে।
আন্তর্জাতিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা সহজ। কিন্তু একটি সংখ্যা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের জানতে হবে, দেশের মানুষ কী পড়ছেন, কেন পড়ছেন, কেন পড়ছেন না এবং বই তাঁদের কাছে পৌঁছানোর পথে কী কী বাধা রয়েছে। প্রকাশনা শিল্পের সংকট ও পাঠাভ্যাসের দুর্বলতাকে আলাদা করে দেখারও সুযোগ নেই। পাঠক বাড়লে বইয়ের বাজার বিস্তৃত হবে, বাজার শক্তিশালী হলে নতুন বই ও নতুন লেখকের জন্য সুযোগ বাড়বে। এই সম্পর্ককে সামনে রেখেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বই কেবল একটি পণ্য নয়; এটি জ্ঞান, কল্পনা, অভিজ্ঞতা ও মননশীলতার বাহন। একটি সমাজে বই পড়ার সংস্কৃতি যত বিস্তৃত হয়, মানুষের চিন্তার জগৎও তত সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পায়। তাই সৃজনশীল বইয়ের বাজারকে বাঁচিয়ে রাখা এবং নতুন পাঠক তৈরি করা একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, বইমেলার সাময়িক উচ্ছ্বাসকে সারা বছরের পাঠাভ্যাসে রূপ দেওয়া এবং বইকে আরও বেশি মানুষের জীবনের স্বাভাবিক অংশ করে তোলা।
