রেলের পাশে একটি ছোট্ট টিনের ঘরের খুঁটির সঙ্গে গত ১০ বছর ধরে লোহার শিকলে বন্দি হয়ে আছেন মানসিক ভারসাম্যহীন নাজমা আক্তার (৩৫)। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা শীত-গ্রীষ্ম—সব ঋতুতেই ঘরের মেঝেতে শুয়ে-বসে কাটছে তাঁর জীবন। পরিবারের অস্বচ্ছলতার কারনে সুচিকিৎসা করাতে পারেনি বৃদ্ধ মা সাকিরন নেছা। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার এলঙ্গি রেলপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য। নাজমা ওই এলাকার প্রয়াত নাজিমুদ্দিনের মেয়ে। নামজা বাইরের কারো সঙ্গে কথা বলেন না। না খেয়ে থাকলেও কারো কাছে কোন খাবার চেয়ে খান না।
তিন সন্তান নিয়ে তার মানবতা জীবন যাপন করতে হচ্ছে। সরকারি জায়গায় একটি টিনের ছোট ঘরে তার সঙ্গে কাটছে নাজমার জীবন। সমাজের বৃত্তবানদের সাহায্যে আবারো ফিরে পেতে পারে নাজমার জীবন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে নাজমার প্রথম বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তাঁর স্বামী মারা যান। এর সাত বছর পর পরিবার থেকে তাঁকে পুনরায় বিয়ে দেওয়া হয়। তবে দ্বিতীয় বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তিনি তীব্র মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে তাকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেয় তার স্বামী।
নাজমার বৃদ্ধা মা সাকিরন নেছা জানান, অর্থাভাব ও চরম দারিদ্র্যের কারণে মেয়েকে কোনো ভালো চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। সাধ্যের মধ্যে কিছু কবিরাজি চিকিৎসা করানো হলেও তাতে কোনো ফল মেলেনি। শিকল মুক্ত পেলেই নাজমা উদ্দেশ্যহীনভাবে হারিয়ে যান, তাই বাধ্য হয়েই তাঁকে এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহানারা জানান, পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। নাজমার সুচিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের একদমই নেই। বর্তমানে পরিবারটিতে উপার্জন করার মতো একজন মাত্র ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁর বয়সও ষাটোর্ধ্ব। এই বয়সে বৃদ্ধ বয়সের ভার সামলে তাঁকেই সাত সদস্যের পুরো সংসারের ভরণপোষণ চালাতে হচ্ছে।
নাজমার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষদের এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসী।
