Published on
:
2 min read
পার্থ দত্ত
টিনের চালের ছোট্ট দুটো ঘরে সারা বছর অনটন। উত্তর ২৪ পরগনার মছলন্দপুরের গায়েন বাড়িতে পুজোয় কোনওদিন সে ভাবে ঝরে পড়েনি খুশি।
আর্থিক অনটন থাকলেও এ বার অবশ্য ভ্যানচালক মঙ্গল গায়েন ও তাঁর গৃহবধূ স্ত্রী অনিতা খুশিতে ভাসছেন। কারণ দেবীপক্ষেই যে তাঁদের মেয়ে শম্পা জাতীয় ওপেন অ্যাথলেটিক্সে অপ্রত্যাশিতভাবে দুটো সোনা জিতেছেন। নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে সদ্যসমাপ্ত ৬৫তম জাতীয় ওপেন অ্যাথলেটিক্সে মেয়েদের ৫০০০ ও ১০০০০ মিটার দৌড়ে প্রথম হয়েছেন শম্পা।
বাংলা থেকে একমাত্র তিনিই এই মিটে টিমে পদক জিতেছেন। মৌমিতা মন্ডল ১০০ মিটার হার্ডলসে ও লিলি দাস ৮০০ মিটারে সোনা জিতলেও তাঁরা কেউই বাংলা থেকে প্রতিনিধিত্ব করেননি। লিলি তো বাংলা থেকে ছাড়পত্র নিয়ে উত্তরাখন্ডের অ্যাথলিট। তবে মৌমিতা বাংলারই। কিন্তু জাতীয় মিটে নামেন কর্মক্ষেত্র রেলের হয়ে।
জোড়া সোনা জিতলেও পুজোতে বাড়িতে ফেরা হচ্ছে না শম্পার। সোমবার যখন শম্পার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো, যখন তিনি দিল্লি থেকে ট্রেনের স্লিপার ক্লাসে ফিরছেন মালদহে। আসলে মছলন্দপুরের মেয়ে হলেও শম্পা গত দু'বছর ধরে প্র্যাক্টিস করেন মালদহে কোচ অমিতাভ রায়ের কাছে। অ্যাথলেটিক্সে যখন আধুনিক ট্র্যাকে ট্রেনিং করা বাধ্যতামূলক, তখন শম্পা প্র্যাক্টিস সারেন ঘাসের মাঠেই।
ফোনে শম্পা বলছিলেন, 'আমি যদি দু–বছর আগে অমিতাভ স্যরের কাছে চলে না আসতাম, তা হলে আজকের এই সাফল্যটা পেতাম না। ঘাসের মাঠে প্র্যাক্টিস করলেও আমি আমার দুটো ইভেন্টে দেশের সেরা দূরপাল্লার অ্যাথলিটদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পেরেছি।' তবে মালদহে বাড়ি ভাড়া করে থাকা খাওয়া কিংবা কোথাও টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার খরচ নিয়ে প্রবল কষ্টেই আছেন শম্পা। বলছিলেন, 'বাড়ি থেকে টাকা চাওয়ার অবস্থা নেই। তবু বাবা–দাদা সাধ্যমতো দেয়। আর আমি বিভিন্ন জায়গায় ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিয়ে কিছু রোজগার করি।' পুজোর সময় দিল্লিতেই একটা ম্যারাথন আছে। শম্পার সেখানেই অংশ নেওয়ার কথা।
পুজোয় বাড়ি ফিরতে না পারলেও জাতীয় মিটে জোড়া সোনা জয়ী শম্পার চোখে এখন আশার আলো। তাঁর কথায়, 'রাজ্যের নতুন সরকার অনেক ক্রীড়াবিদকেই চাকরি দিচ্ছে। আমি গ্র্যাজুয়েট। আশা করি, চাকরি পাব। তা হলে নিজের খরচে আরও ভালো ভাবে প্র্যাক্টিস করতে পারব। স্বপ্ন দেখি, খুব শীঘ্রই ভারতীয় টিমেও জায়গা পাব।'
খেলাধুলোয় ক্রমশ পিছিয়ে পড়া বাংলায় কি শম্পা আবির্ভূত হবেন নতুন দেবী হিসেবে?