নিম্নচাপ তৈরি হয়ে গিয়েছে। তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সোমবার সকালের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়ে যাবে। তার আগে দক্ষিণমুখী নিম্নচাপ আচমকা বাঁক নেবে সমুদ্রে!
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর যে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে, তা আট কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তার অবস্থান ছিল আন্দামানের শ্রীবিজয়পুরম থেকে ৪৭০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিম, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ৮৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব, কাকিনা়ড়া থেকে ৯৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্ব, মছিলিপত্তনম থেকে ১০৬০ কিলোমিটার পূর্ব এবং বাপাতলা থেকে ১১৩০ কিলোমিটার পূর্ব।
রবিবার এটি ক্রমশ দক্ষিণ দিকে এগিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপরেই ধীরে ধীরে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে বাঁক নেবে। তার পর তা ক্রমে সে দিকেই এগিয়ে সোমবার সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। সমু্দ্রের উপর আরও শক্তি সঞ্চয় করে তা মঙ্গলবার সকালের মধ্যে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে চলেছে।
তীব্র ঘূর্ণিঝড় ক্রমে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। বুধবার সকালে তা পৌঁছোবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে। অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ইয়ানাম উপকূলে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী অংশে ‘অতি তীব্র’ আকারে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে বুধবার দুপুর নাগাদ। সেই সময় ঝড়ের গতি থাকবে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ১৪০ কিলোমিটারেও।
নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পূর্ব-মধ্য, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বইবে। রবিবার থেকেই হাওয়ার বেগ বাড়তে শুরু করেছে সমুদ্রের উপর। সোমবার, ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার দিন সমুদ্রে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার, মঙ্গলবার, তীব্র ঘূর্ণিঝ়ড়ের প্রভাবে ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার এবং বুধবার অতি তীব্র ঘূর্ণিঝ়ড়ের প্রভাবে ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার বেগে সমুদ্রে হাওয়া বইতে পারে। বুধবার দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ১৪০ কিলোমিটারেও। তার পর ধীরে ধীরে হাওয়ার বেগ কমবে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে মঙ্গলবার থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীরা মঙ্গলবারের পর আর সমুদ্রে যেতে পারবেন না। যাঁরা আছেন, মঙ্গলবারের মধ্যেই তাঁদের ফিরে আসতে বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে মঙ্গলবার থেকে ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার। নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র থাকবে উত্তাল।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টি হবে। বুধবার এবং বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে। এ ছাড়া, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কেবল বৃহস্পতিবার। কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে বুধবার ও বৃহস্পতিবার। উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় তা চলবে বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। উত্তরের বাকি জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে। দুই বঙ্গেই আগামী তিন দিন তাপমাত্রার বড় কোনও পরিবর্তন হবে না। তার পর দুই থেকে তিন ডিগ্রি পারদ নামতে পারে।
রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৪ ডিগ্রি বেশি। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি কম।
