ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের কয়েকজন মন্ত্রীর ইশারা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বাংলাদেশের মন্ত্রীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, বিদেশ থেকে ভারতের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়ায় একটি দুর্গাপূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এসব মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ।
পূজা উদ্বোধনের পর মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় চাঁদার জুলুম ও তোলাবাজি নিয়ে পূজার আয়োজকদের সতর্ক করেন পশ্চিমবঙ্গের এই মন্ত্রী। পরে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি।
আরও পড়ুন
ইরান নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, স্বীকারোক্তি ট্রাম্পের!

দিলীপ ঘোষ বলেন, দিল্লির আন্দোলন দেখে ধীরে ধীরে বোঝা যাচ্ছে, এর পেছনে কারা রয়েছেন। বাংলাদেশের কয়েকজন মন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট দেখলে বিষয়টি সম্পর্কে অনেক কিছু বোঝা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদের হাতে এখন তেমন কোনো কাজ নেই। তাই পূজার সময় তারা ঘোরাফেরা করছেন, আবার শীত আসায় ধর্নায় বসছেন। এসব কর্মসূচির পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা বাংলাদেশের মন্ত্রীদের ফেসবুক পোস্ট দেখলেই বোঝা যাবে বলে দাবি করেন দিলীপ ঘোষ।
তাঁর অভিযোগ, বিদেশ থেকে কিছু ব্যক্তি ভারতের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন এবং তাঁদের নির্দেশেই এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। তবে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন প্রসঙ্গেও বিরোধীদের সমালোচনা করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর ভাষ্য, যেসব রাজনৈতিক দল ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে, তাদের সামনে এখন আর কোনো কার্যকর রাজনৈতিক মঞ্চ নেই। এ কারণে তারা অন্যদের আন্দোলনকে অবলম্বন করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য সামনে এসেছে। তবে আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের মন্ত্রীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগটি তাঁর বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য।
সূত্র: ইটিভি ভারত
