আমাদের দেশের নারীরা শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চমৎকার অবদান রাখছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজও অনেক নারী রাস্তাঘাট, গণপরিবহন, জনসমাগমস্থল, ব্যায়ামাগার ও বিনোদনকেন্দ্রে নানা ধরনের হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হন। একজন নারী যখন ঘর থেকে বের হন, তখন তাঁর নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকা উচিত।
কিন্তু অনেক সময় ইভ টিজিং, অশালীন মন্তব্য, গণপরিবহনে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং চুরি-ছিনতাইয়ের ভয়ে নারীরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অনেক নারী বাইরে যেতে দ্বিধাবোধ করেন। এর ফলে তাঁদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনা আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে এবং বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে নির্জন স্থানে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠে আসা এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ও আনন্দ কেড়ে নেয় নি, বরং আমাদের সমাজে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাত্র আট মাসে দেশে অন্তত ৮৮৪ জন কন্যাশিশু নির্মম নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে। একই সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক নারীসহ মোট ১,৯১৯ জন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপপরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আট মাসের মাসিক তথ্যপ্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে।
এখন প্রশ্ন হলো, একটি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী যদি নিরাপদে চলাচল করতে না পারে, তবে সেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব? নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু নারীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি একটি সভ্য, মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। নারীদের নিরাপত্তার দায় নারীদের একার নয়; বরং পরিবার, সমাজ, প্রশাসন ও রাষ্ট্র—সবার।
- মোঃ আসাদুজ্জামান
ঢাকা কলেজ।
বাড়ছে কিশোর অপরাধ
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পারিবারিক অস্থিরতা, অভাব-অনটন, অভিভাবকের নজরদারির অভাব, খারাপ সঙ্গ, মাদক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ও সহিংস কনটেন্ট কিশোরদের অপরাধপ্রবণ করে তুলছে। বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অপরাধ দমনে শুধু শাস্তি নয়, প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক ও পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ। পরিবারে নজরদারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং, খেলাধুলার সুযোগ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শিশু আইন, ২০১৩-এর কার্যকর প্রয়োগ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। কিশোররা দেশের ভবিষ্যৎ; তাই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই তাদের সঠিক পরিবেশ, নৈতিক শিক্ষা ও ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দেওয়া রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
-আহম্মেদ আল জিদান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
