রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি অটোরিকশা চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আজ রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তরপানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকার বড় সেচ ক্যানেলের কাছে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার কচুয়া সরদারপাড়া এলাকার এজারুল ওরফে রেজাউল কানা (৪৫) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম (২৫)।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরপানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকার বড় সেচ ক্যানেলের পাশে দুই ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে রয়েছে। মরদেহগুলো ঘিরে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ জড়ো হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটির উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে সোহেলের বাড়ির সামনের মসজিদে মুসল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় সোহেলের চিৎকার শুনে কয়েকজন মুসল্লি নামাজ ছেড়ে চোর সন্দেহে ওই ব্যক্তিদের পিছু নেন। কিন্তু তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করতে না পেরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে অটোরিকশা চুরির ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পর চারপাশ থেকে লোকজন বিভিন্ন দিক থেকে ধাওয়া করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অটোরিকশাটি রেখে ধানখেতের মধ্য দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে চারদিক থেকে তাঁদের ঘিরে ফেলেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন। এ সময় পিটুনিতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
অটোরিকশার মালিক সিদ্দিকুর রহমান সোহেল বলেন, ‘আগের রাতে বাথরুমের মেঝে ঢালাইয়ের জন্য দুই বস্তা সিমেন্ট এনেছিলাম, যা অটোরিকশাতেই রাখা ছিল। ভোর ৪টার দিকে উঠে গাড়িটি চার্জে দিতে দেখে আমি আবার ঘুমাতে যাই। কিছুক্ষণ পর আমার ছোট মেয়ে কান্না শুরু করলে তাকে বুকে নিয়ে ঘুম পাড়াচ্ছিলাম। এর মধ্যে চোরেরা অটোরিকশার ঘরের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমে তারা আমার ঘরের দরজায় দুবার আঘাত করে। তখন বিষয়টি বুঝতে পেরে ভাবছিলাম মেয়েকে ঘুম পাড়িয়েই উঠব। এর দুই মিনিট পর আমার স্ত্রী বলে ওঠে, তুমি ঘুমাচ্ছ, আর আমাদের অটোরিকশা নিয়ে যাচ্ছে।’
সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, ‘বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে বারান্দা দিয়ে বের হয়ে অটোরিকশার পেছনে টান দিই। তখন তারা আমাকেসহ অটোরিকশা টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আমি অটোরিকশা ছেড়ে দিয়ে চিৎকার শুরু করি। মসজিদের লোকজন বের হয়ে দেখেন, আমি মাটিতে পড়ে আছি এবং আমার হাঁটুর চামড়া উঠে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘এরপর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে চোর অটোরিকশা নিয়ে উত্তর দিকে পালাচ্ছে। পরে শুনি, আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ক্যানেলের কাছে পিটুনিতে দুজন মারা গেছেন।’
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
