গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নেত্রকোনার সদর উপজেলার ৮৫ বছর বয়সী অসহায় রুস্তম আলী ও তাঁর চার নাতি-নাতনির পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার শিবপ্রসাদপুর গ্রামে রুস্তম আলীর বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিজা খাতুন। একই সঙ্গে পরিবারটিকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
গণমাধ্যমে পরিবারটির দুরবস্থার খবর প্রকাশের পর সদর উপজেলায় দায়িত্বে থাকা শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী আশরাফুল আলম সানির মাধ্যমে তাদের খোঁজখবর নেয় উপজেলা প্রশাসন। পরে পরিবারটিকে সহায়তায় এগিয়ে আসে প্রশাসন।
শিবপ্রসাদপুর গ্রামের বাসিন্দা রুস্তম আলী। ৮৫ বছর বয়সে যেখানে তাঁর নিজেরই অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে ছেলে, পুত্রবধূ ও স্ত্রীকে হারিয়ে চার নাতি-নাতনির দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। আপনজন হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অসহায় শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিতে শুরু হয় তাঁর প্রতিদিনের সংগ্রাম।
একসময় বেতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন রুস্তম আলী। বয়সের ভারে এখন আর সেই কাজ করার সামর্থ্য নেই। নিয়মিত আয় না থাকায় চার শিশুর খাবার, চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভাবের কারণে কখনো একবেলা খাবার জোটে, আবার কখনো না খেয়েই দিন কাটে পুরো পরিবারের। চার শিশুর মধ্যে বড় নাতির শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা রয়েছে। মৃগীসহ বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না।
অভাবের কারণে বড় নাতনির পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারলেও ছোট দুই বোনের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে সে। অল্প বয়সেই পরিবারের দায়িত্বের ভার এসে পড়েছে তার কাঁধে।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে দিন পার হলেও দীর্ঘমেয়াদে চার শিশুর খাবার, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা রুস্তম আলীর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এ অবস্থায় গণমাধ্যমে পরিবারটির দুরবস্থার খবর প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারটিকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করতে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে চার শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নিয়মিত খাদ্যসহায়তা, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
৮৫ বছর বয়সে নিজের জীবনের শেষ সময়টা শান্তিতে কাটানোর কথা রুস্তম আলীর। কিন্তু সন্তান ও স্ত্রীকে হারানোর শোকের সঙ্গে এখন তাঁকে লড়তে হচ্ছে দারিদ্র্য ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষও পরিবারটির পাশে দাঁড়াবেন, যাতে চার শিশু নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত খাবার, চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ পায়।
