অবরোধ ও সংঘর্ষে অচল হয়ে পড়েছে রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের সঙ্গে দীঘিনালার সড়ক যোগাযোগ। বন্ধ রয়েছে যান চলাচল ও দোকানপাট। পরিস্থিতির কারণে পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় দুর্গাপূজার ছুটিতে সাজেকের রিসোর্ট-কটেজের একের পর এক বুকিং বাতিল হচ্ছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে দীঘিনালা-সাজেক সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার উজোবাজার এলাকায় সংঘর্ষের পর থেকে বন্ধ রয়েছে দোকানপাটও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল চলছে।
অবরোধের কারণে বুধবার সন্ধ্যা থেকে সাজেকে পর্যটকদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসন। এতে দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে আগে থেকে করা হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের বুকিং বাতিল হতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অবশিষ্ট বুকিংও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘আমাদের অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। সকালে সাজেক সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করা হয়েছে।’
সাজেক রুইলুই হলিডে রিসোর্টের ব্যবস্থাপক রাশু চাকমা বলেন, দুর্গাপূজার আগে থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের রিসোর্টের শতভাগ কক্ষ বুকিং ছিল। তবে বৃহস্পতিবার অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনার পর শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বাকি বুকিংগুলোও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অনেক রিসোর্ট ও কটেজে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কক্ষ বুকিং ছিল। কিন্তু অবরোধের কারণে বুকিং বাতিল করছেন পর্যটকেরা। শুক্রবারও অনেক বুকিং বাতিল হয়েছে। এভাবে পর্যটকেরা আসতে না পারলে সাজেকের পর্যটন খাতে বড় ধস নামবে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, উজোবাজার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল চলছে। তবে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে শনিবার ভোর থেকে আধাবেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সংগঠন। এতে দুই জেলার যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন করে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সড়ক অবরোধের সময় সাজেক থেকে আসা পর্যটকবাহী গাড়ির বহর উজোবাজার এলাকায় আটকে দেন অবরোধকারীরা। পরে আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
