রাজধানীর পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনে খুচরা বাজারে পৌঁছাতেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম! পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, আড়ত ভাড়া, বিভিন্ন ঘাটে টোল পরিশোধ এবং বারবার হাতবদলের কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারের মধ্যে কেজিপ্রতি ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ব্যবধান দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির এমন চড়া দামে বাজার করতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর অবস্থা।
রাজধানীর বৃহত্তম পাইকারি আড়ত সাদেক খান বাজার ও খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় দামের এক চমকপ্রদ তথ্য। পাইকারি বাজারে যে লাউ ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, খুচরা বাজারে সেই লাউ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা!
ফুলকপি: পাইকারিতে ৩২-৩৫ টাকা ➔ খুচরায় ৫৫-৬০ টাকা
ঢেঁড়স: পাইকারিতে ২৫ টাকা (কেজি) ➔ খুচরায় ৮০ টাকা
পেঁপে: পাইকারিতে পাল্লা (৫ কেজি) ৪০ টাকা (কেজি ৮ টাকা) ➔ খুচরায় ৩০-৪০ টাকা
বেগুন: পাইকারিতে পাল্লা ৩০০ টাকা (কেজি ৬০ টাকা) ➔ খুচরায় ৮০-১২০ টাকা
কাঁচা মরিচ: পাইকারিতে পাল্লা ৩২০ টাকা (কেজি ৬৪ টাকা) ➔ খুচরায় ১২০-১৪০ টাকা
শিম: পাইকারিতে পাল্লা ৫০০ টাকা (কেজি ১০০ টাকা) ➔ খুচরায় ১২০-১৬০ টাকা
এছাড়া টমেটো প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, দেশি গাজর ১০০ টাকা, চায়না গাজর ১৬০ টাকা, ধনেপাতা ২০০ টাকা এবং শসা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কম দামি সবজির তালিকায় কেবল টিকে আছে মিষ্টি কুমড়া (৫০ টাকা) ও পেঁপে।
আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষক থেকে শুরু করে ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছাতে অন্তত চারবার হাতবদল হয়—কৃষক ➔ স্থানীয় পাইকার ➔ ঢাকার পাইকার ➔ খুচরা বিক্রেতা ➔ ক্রেতা।
আড়তদারদের বক্তব্য, “আমাদের এখানে সীমিত কমিশন রাখা হয়। আসল টাকা চলে যায় পরিবহনে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বগুড়া বা উত্তরাঞ্চল থেকে গাড়িভাড়া ৩-৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে (প্রায় ২৫-৩০% ব্যয় বৃদ্ধি)। তাছাড়া প্রতিটি গাড়িকে রাস্তায় কয়েক জায়গায় টোল দিতে হয়। আগে যে ট্রাক ১৫ হাজার টাকায় আসত, এখন ২০ হাজার টাকা দিয়েও পাওয়া মুশকিল।”
রায়েরবাজারের সবজি বিক্রেতা রমজান আলী বলেন, “আমরা সকালে যে দামে পাইকারি কিনি, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ হিসাব করেই খুচরা দাম ধরে বিক্রি করি। তাছাড়া কাঁচামাল পচনশীল পণ্য। একদিন বিক্রি না হলে পরদিন মান কমে যায় বা নষ্ট হয়, তখন লোকসানে বেচতে হয়। দিন গড়ালে দাম কমিয়ে দিতে হয় বলে এই ক্ষতি সামলাতে একটু লাভ ধরে বিক্রি করতে হয়।”
শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ এখনো বাজারে না আসায় সরবরাহ কম থাকা এবং পরিবহন খাতের চড়া ব্যয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি দামের বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাকেই।
