ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ খোঁজার পরিবর্তে দেশটির বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক এক বিশ্লেষক। সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা, উচ্চপর্যায়ের সফর এবং কূটনৈতিক স্থাপনা থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি মনে করছেন, পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও সামরিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে তিনি এমন ধারণা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
অধ্যাপক এলমাসরির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অঞ্চলটির কয়েকটি কূটনৈতিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার খবরও সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকের মতে, এসব পদক্ষেপকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। বরং এগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করলে ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক পরিকল্পনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। তাঁর আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তবে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি এখনো বিশ্লেষকের আশঙ্কার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক তৎপরতার ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হলেও এসব ঘটনা যে সরাসরি হামলার সিদ্ধান্তের প্রমাণ, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এলমাসরি আরও সতর্ক করেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তার পরিণতি আগের সংঘাতের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারে। এতে শুধু ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাও গুরুতর হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ অবস্থায় ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন বিশ্লেষকেরা। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো সম্ভব হবে, নাকি পরিস্থিতি আবারও সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নেবে—তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
