আজকাল ওয়েবডেস্ক: নন্দীগ্রাম তাঁকে রাজনৈতিক ভিত শক্ত করার জমি দিয়েছে। ক্ষমতার শীর্ষ পৌঁছে এবার যেন তাঁর নন্দীগ্রামকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। পুননির্বাচনের প্রচারে বারে বারে নন্দীগ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কীভাবে সেই পরিকল্পনা হয়েছে? পুজো উদ্বোধনে গিয়ে তা তুলে ধরেছেন খোদ শুভেন্দু অধিকারীই।
নন্দীগ্রামে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ উদ্বোধনের সময় শুভেন্দু ইঙ্গিত দেন যে, অদূর ভবিষ্যতে তিনি এই গ্রামীণ এই কেন্দ্রটিকে একটি শহরে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আসুন আমরা নন্দীগ্রামের উন্নয়ন করি। নন্দীগ্রাম আর গ্রাম হিসেবে পড়ে থাকবে না। একে শহরের আদলে গড়ে তুলতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “হলদিয়া-নন্দীগ্রাম সেতুর বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি হয়ে গিয়েছে এবং মাটি পরীক্ষার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে, আমি এটিকে (শহরে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব। এখানে একটি রেললাইনও থাকবে। আমি পুরো এলাকাটিকে বদলে দেব এবং সামগ্রিকভাবে এর উন্নয়ন ঘটাব।”
নন্দীগ্রাম শেষ পর্যন্ত পৌরশহরে পরিণত হবে কি না, তা নিয়ে শুভেন্দু সরাসরি কিছু না বললেও, দলের একাধিক নেতার মতে, তাঁর এই ইঙ্গিতই যথেষ্ট। এর অর্থ হল, ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল এই এলাকাটি হলদিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে এবং মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে শিল্পোন্নত অঞ্চলে পরিণত হবে।
হুগলি নদীর দুই তীরে অবস্থিত হলদিয়া ও নন্দীগ্রাম। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, শুভেন্দু এই দুই প্রান্তকে যুক্তকারী সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাংলার অন্যতম প্রধান শিল্পশহর হলদিয়া। সেতু নির্মাণের মাধ্যমে হলদিয়া ও নন্দীগ্রাম যুক্ত হলে, তা নন্দীগ্রামের উন্নয়নে বড় গতি জোগাতে পারে।
বিজেপির একটি সূত্রের খবর, নন্দীগ্রামের সঙ্গে শুভেন্দুর এক আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে তিনি এই কেন্দ্রে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্য হন। ২০২০ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নন্দীগ্রামে মমতার বিরুদ্ধে এই জয়ই তাঁর বিরোধী দলনেতা হিসেবে উঠে আসার পথ প্রশস্ত করেছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক নেতার কথায়, “নন্দীগ্রামই ছিল সেই জায়গা, যেখানে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছিল- যা তিনি নিজেও সবসময় স্বীকার করেছেন। নন্দীগ্রামের মানুষ সব পরিস্থিতিতেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।”
এবার ভবানীপুর আসনটি নিজের দখলে রেখে শুভেন্দু নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ভবানীপুর আসনটি ছেড়ে দিলে মমতা ব্যানার্জির সামনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আরেকটি সুযোগ তৈরি হতে পারত। তবে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি সবসময় নন্দীগ্রামের ভোটার হিসেবেই থাকবেন এবং এখানকার মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে, শুভেন্দুর নিহত সহযোগী চন্দ্রনাথের মা হাসিরানী রথ নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে ১ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
নন্দীগ্রামে চারটি দুর্গাপুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করার সময় শুভেন্দু স্থানীয় বাসিন্দাদের বারবার আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি এই নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন এবং এখানকার মাটির সঙ্গে সবসময় যুক্ত থাকবেন। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের প্রতিটি পরিবারে সুখ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের মনে কোনওভাবেই অহংকার আসতে দেওয়া চলবে না।”
