হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীকে গলা টিপে খুনের অভিযোগ উঠল। কোচবিহারের বেসরকারি হাসপাতালের এই ঘটনায় শনিবার সকালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। এমনকী হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে রক্ত ঝড়ল মৃতের আত্মীয়ের। যদিও মৃতের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগও মানতে চাননি তাঁরা। তবে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ‘অফার’ দিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? সেই প্রশ্নই তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
মৃতের নাম দীপঙ্কর সরকার। তাঁর বাড়ি তুফানগঞ্জের চামটায়। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। পরিবারের অভিযোগ, দশমীর দিন পেটে ব্যথার সমস্যা নিয়ে কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আসেন তিনি। নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে আসেন দীপঙ্কর। গতকাল রাতেও তিনি ঠিকমতো কথা বলেছেন। হাসপাতাল থেকে মধ্যরাতে ফোন করে জানানো হয়, রোগীর অবস্থা খারাপ। হাসপাতালে এসে রোগীর মৃত্যুর খবর পান আত্মীয়রা। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিবার। খুনের অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
পরিবারের দাবি, রোগী ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসক কোনও ওষুধ দেননি। নার্সরাই তাঁকে ওষুধ দিচ্ছিলেন। রোগী নিজে একজন চিকিৎসক ছিলেন। চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই তাঁকে গলা টিপে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান পরিবারের। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীপঙ্করের গলায় কালো দাগ রয়েছে। গলায় ফাঁস দিয়েই তাঁকে খুন করা হয়েছে।
শনিবার সকালে এই নিয়ে হাসপাতালে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায় রোগীর পরিবারের সদস্যদের। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিবারের দাবি, খুনের অভিযোগ তুলতেই ক্ষতিপূরণ দিতে চান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত না থাকলে ক্ষতিপূরণ দিতে চাইবেন কেন সেই প্রশ্ন উঠছে।
