Published on
:
2 min read
গথাম সিটিতে তিনি থাকেন না। কেতাদুরস্ত ব্যাটমোবাইলে চেপে ঝড়ের গতিতে দস্যু-লুটেরাদের পিছু ধাওয়া করার ক্ষমতাও তাঁর নেই। তবু তিনি ব্যাটম্যান। লন্ডনের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে পায়ে হেঁটে ঘুরছেন তিনি। ‘যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল’ — এই তাঁর পণ।
পরনে কালো পোশাক। মুখে ব্যাটম্যানের মুখোশ। পিঠে কেপ। এক ঝলকে দেখলে অবিকল ব্যাটম্যান মনে হতে বাধ্য। কিন্তু কখনও তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসে আবর্জনা পরিষ্কার করছেন, আবার কখনও দুঃস্থ ফুটপাথবাসীর মুখে তুলে দিচ্ছেন খাবার। যেন বোঝাতে চাইছেন আসল সুপারহিরো এমনই হয়।
যখনই কেউ বিপদে পড়ছেন, ত্রাতা মধুসূদনের মতো হাজির হচ্ছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে তাঁর ছবি, ভিডিয়ো। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘আমি লন্ডনকে বাঁচাতে চাই। রাস্তা থেকে আবর্জনার শেষ টুকরোটা না সরানো পর্যন্ত থামব না।’ দিন দিন বাড়ছে তাঁর জনপ্রিয়তা। কিন্তু কে এই মুখোশধারী? কী তাঁর উদ্দেশ্য?
কে এই লন্ডনের ব্যাটম্যান?
ব্যাটম্যানের পরিচয় নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কিন্তু কেউই জানে না তিনি আসলে কে? সবেচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে ইউটিউবার নিকো ওমিলানাকে নিয়ে। তিনি প্র্যাঙ্ক ভিডিয়ো তৈরি করেন। নানা অভিনব কাণ্ড-কারখানার জন্য পরিচিত। এমনকী লন্ডনের মেয়র নির্বাচনেও লড়েছিলেন। তবে জিততে পারেননি।
অনেকেই মনে করেন, ব্যাটম্যানের মুখোশের পিছনে নিকোই রয়েছেন। তবে এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি নিজেই। বিবিসি লন্ডন তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিল, আপনিই কি ব্যাটম্যান? উত্তরে একটি ভয়েস নোট পাঠান তিনি, ‘শুধু এটুকু বলতে চাই, আমি ব্যাটম্যান নই।’
জল্পনা ডালপালা মেলছে কাউন্ট বিনফেসকে নিয়েও। হাই প্রোফাইল রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ভোটে লড়াই তাঁর নেশা। তবে সব জল্পনায় জল ঢেলে গার্ডিয়ানকে তিনি বলেছেন, ‘লন্ডনের ব্যাটম্যানের সঙ্গে আমাকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। আমরা কেউ এক রকম নই।’ তবে সুপারহিরোকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন তিনি।
তবে নিকো ওমিলানা যতই না বলুন, তাঁর সঙ্গে ব্যাটম্যানের কাজকর্মের মিল পাচ্ছেন অনেকেই। ২০২১-র মেয়র নির্বাচনের সময়ে ৫ পেন্সে ফ্রেডো চকোলেট বিক্রির প্রতিশ্রুতির দিয়েছিলেন তিনি। ব্যাটম্যান সেই কাজও করছেন।
৫ পেন্সে ফ্রেডো চকোলেট, এক পাউন্ডে চিকেন-চিপস
ফ্রেডো চকোলেট বললেই নস্টালজিয়ায় ভোগে ব্রিটেনবাসী। কত স্মৃতি, কত আবেগ। কিন্তু যা হয়, ধীরে ধীরে দাম বেড়েছে। ব্যাটম্যান ফের ৫ পেন্সেই সেই চকোলেট বিক্রি করতে শুরু করেছেন লন্ডনের রাস্তায়। এক পাউন্ডে বিক্রি করছেন চিকেন আর চিপস। খুদে পড়ুয়ারা স্কুল থেকে বেরিয়ে এই সব খেতে খেতেই বাড়ি ফেরে।
শুধু তাই নয়, অনেকের গাড়িতে ফ্রিতে পেট্রলও ভরে দিচ্ছেন ব্যাটম্যান। দ্য টাইমস-কে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন সেই কথা। প্রায় ৩৫০০ পাউন্ড বিল হয়েছিল তাঁর। পুরো টাকা মিটিয়ে দেন ব্যাটম্যান নিজে। কিন্তু এত টাকা আসছে কোথা থেকে? এই প্রশ্নের উত্তরও অজানা।
রাজনীতিতে নামবেন ব্যাটম্যান?
ব্যাটম্যানের কাজকর্ম দেখে অনেকেই মনে করছেন, তিনি আসলে জমি তৈরি করছেন। সময় এলে মুখোশ খুলে রাজনীতিতে নামবেন তিনি। তাঁর কাছ থেকে পাঁচ পেন্সে ফ্রেডো চকোলেট কিনেছিলেন গায়ক এস ক্লার্ক। তিনি এখনই ব্যাটম্যানকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। সরাসরি বলে দিলেন, ‘পাঁচ পেন্সে ফ্রেডো, এক পাউন্ডে চিকেন-চিপস আর বিনামূল্যে জ্বালানি—ভোট তাঁকেই দেব।’
মজার বিষয় হলো, ব্যাটম্যান সুযোগ পেলেই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে কটাক্ষ করেন। এমনকী মূল্যবৃদ্ধির জন্য আঙুল তুলেছেন তাঁর দিকেই। তাঁর ভিডিয়োগুলিতেও পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট। তিনি যে বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাতে সন্দেহ নেই অনেকেরই।
হু হু করে বাড়ছে জনপ্রিয়তা
লন্ডনের অলি-গলি, চায়ের ঠেকে এখন শুধুই ব্যাটম্যানের কথা। গত এক মাসে টিকটকে তাঁর ফলোয়ার্স ৩ লক্ষ ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। X, ইনস্টাগ্রামেও একই ছবি। সর্বত্রই ব্যাটম্যানের জয়জয়কার। তবে এখনও তাঁর পরিচয় রহস্যে মোড়া। কালো কেপ আর মুখোশের আড়াল থেকেই এই পৃথিবীকে তিনি শিশুর বাসযোগ্য করে যেতে পারেন কি না, সেটা সময়ই বলবে।
