মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার জন্য ইসরায়েলের দখলদারত্বকে দায়ী করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসর।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানিয়েছে দেশ চারটি।
শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএর বরাতে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও আরব নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের বিভিন্ন নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে অন্যায়বোধ আরও বেড়েছে। ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে নিজেদের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
এ ছাড়া, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। এ লক্ষ্যে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সই হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের প্রতিও সমর্থন জানান তারা। একইসঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করারও আহ্বান জানান।
যৌথ বিবৃতিতে ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরব ও ইয়েমেনে হামলার নিন্দা জানানো হয়। হুতিদের সামরিক অভিযান বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এ ছাড়া, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, ইয়েমেন পরিস্থিতি, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হয়। সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনায় হুতি হামলার নিন্দাও জানান তারা।
গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতি হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সৌদি আরবকে রক্ষায় ইসলামাবাদ প্রস্তুত।
