পাবনায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদরাসা ও বাড়িতে ভাঙচুর, আগুন
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামে একটি মহিলা কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালক আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসা ও শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ ঘটনায় তাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা কালুরপাড়া এলাকার নুরে মদিনা আবাসিক মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই মহিলা মাদরাসার পরিচালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পদ্মা মাঠসংলগ্ন নুরে মদিনা মহিলা কওমি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। ফজরের আজানের আগে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ জন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো। মাদরাসার অন্য কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো বলেও জানান ওই ছাত্রী। অভিযুক্ত শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর করেন এবং আগুন ধরিয়ে দেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে এবং তাকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম/রিফাত/
আরও পড়ুন
‘বউ মেলা’ নয়, ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী আদিবাসীদের মিলনমেলা
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দিনাজপুরের বীরগঞ্জ গোলাপগঞ্জে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী মেলায় উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলাটিকে ‘বউ মেলা’ বা ‘জীবনসঙ্গী খোঁজার মেলা’ হিসেবে প্রচার করা হলেও বাস্তবে এর সঙ্গে এমন কোনো আয়োজনের সম্পর্ক নেই। বরং এটি সাঁওতালসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলা, যেখানে নিজেদের সংস্কৃতি, ভাষা, নাচ ও গান তুলে ধরেন তারা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে বীরগঞ্জের গোলাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিজয়া দশমীর পরদিন প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলা ও দূরদূরান্তে ছড়িয়ে থাকা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ এ মেলায় অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ এবং পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আদিবাসী নারী নেত্রী রিটা হেমব্রম বলেন, গত তিন বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঐতিহ্যবাহী মেলা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। প্রচার করা হচ্ছে, এখানে কোনো মেয়েকে পছন্দ হলেই বিয়ে করা যায়। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের প্রচারে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং তাঁদের মধ্যে বিভক্তি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছর বিজয়া দশমীর পরদিন এ মেলার আয়োজন করা হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি সাঁওতাল নারী-পুরুষ ও তাঁদের আত্মীয়স্বজন এখানে আসেন। তাঁদের দেখা-সাক্ষাৎ, আনন্দ ভাগাভাগি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চর্চাই মেলার মূল উদ্দেশ্য।
সাঁওতাল সম্প্রদায়ের শ্যামলী মুর্মু বলেন, এ মেলায় ছেলে-মেয়েদের পছন্দের ভিত্তিতে বিয়ে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হতে পারে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এ ধরনের অপপ্রচার একটি সম্প্রদায়কে ছোট করার শামিল।
নীলফামারী থেকে মেলায় ঘুরতে আসা জাকারিয়া পিন্টু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলাটিকে জীবনসঙ্গী খোঁজার বা বউ মেলা হিসেবে জেনেছিলেন। কিন্তু সরেজমিনে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখেছেন। এখানে আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক আয়োজন ও মানুষের মিলন ঘটেছে। জীবনসঙ্গী খোঁজার মেলা হিসেবে প্রচারের কোনো বাস্তবতা তিনি দেখেননি।
মেলার আয়োজক বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন বলেন, এটি আদিবাসীদের প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা। আদিবাসীদের ভাষা, নাচ, গান ও সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিকাশের উদ্দেশ্যে প্রতিবছর এ আয়োজন করা হয়। মেলায় নারী ও পুরুষেরা পৃথকভাবে নিজেদের ভাষায় গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতারও আয়োজন থাকে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলাটিকে ‘বউ মেলা’ বা ‘জীবনসঙ্গী খোঁজার মেলা’ হিসেবে প্রচার করা হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পারস্পরিক মিলনমেলার আয়োজন।
সুলতান মাহমুদ/এসএন
আরও পড়ুন
রৌমারীতে বিদেশ ফেরত ভাতিজার হাতে চাচি খুন, ঘাতক আটক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিদেশ ফেরত ভাতিজার ধারালো অস্ত্রের কোপে চাচির মৃত্যু ঘটেছে।
এ ঘটনায় তার চাচা, বোন ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আহত হয়েছে। ঘাতক ভাতিজা ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার উত্তর বারবান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম সোনা ভান (৪৫)। তিনি উত্তর বারকান্দা গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের মৃত জয়নাল জোদ্দারের ছেলে দুবাই প্রবাসী ফারুক হোসেন (৩২) প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফেরেন।
দেশে ফেরার পর থেকে তাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত মনে হয়। প্রায়ই অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতেন।
ঘটনার দিন দুপুরে ফারুক তার মা ও ছেলে মাহমুদুলকে একটি ঘরে আটকে রাখেন। তাদের উদ্ধারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে গেলে ফারুক ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে চাচি সোনা ভানকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে তার চাচা খলিল হোসেন (৫০), বোন মমিনা খাতুন (৩৫) ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জোসনা বেগমকে (২৬) কুপিয়ে আহত করেন। এতে সোনা ভানের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন ফারুককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আহত তিনজনকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাওছার আলী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এসএন/
আরও পড়ুন
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত আশিকের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছেছে
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি শাহেদ আহমেদ আশিকের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে মরদেহ পৌঁছালে পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে বাড়িতে ফিরলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয়জনকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ।
নিহত শাহেদ আহমেদ আশিক বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে মিঠুর ছেলে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক মাসের ছুটি কাটিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে গত ৯ অক্টোবর সৌদি আরবের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন আশিক। তার কর্মস্থল ছিল জেদ্দায়। রিয়াদ হয়ে সেখানে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু কর্মস্থলে ফেরার সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে জীবনের শেষ যাত্রা। গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।
পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, রিয়াদের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আশিক তার স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। তিনি রিয়াদে পৌঁছানোর কথা জানান এবং জেদ্দায় পৌঁছে আবার ফোন করবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। কিছুক্ষণ পরই বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা ঘটে। এরপর আশিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বেগে পড়ে পরিবার। পরে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন স্বজনেরা।
আশিকের আকস্মিক মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। তার দুই ছেলের বয়স ১১ ও ৬ বছর।
স্বামীর মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
আশিকের বাবা রফিকুল ইসলামও সৌদি আরবে কর্মরত। তার মা শাহেরা বেগম ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আশিকের মরদেহ পৌঁছায়। পরে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে বগুড়ার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
দুপুর আড়াইটার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়।
পরিবারের বাড়ির উঠানে তার দাদার কবরের পাশে কবর প্রস্তুত করা হয়। বিকেল ৫টায় স্থানীয় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।
রিপন দাস/রিফাত/
আরও পড়ুন
ছেলে কৃষি কর্মকর্তা, বাবা পেলেন সারের ডিলারশিপ
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বাবার নামে সারের ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। জানার পর জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে তিনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, সম্প্রতি হাতিয়া উপজেলার পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সারের ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে তমরদ্দি ইউনিয়নে স্থানীয় কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ তার বাবা মো. আব্দুল বাতেনের ‘মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজ’ নামে সারের ডিলার বাগিয়ে নিয়েছেন।
সুপারিশ পাওয়া মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আব্দুল বাতেন বলে তিনি খবরের কাগজের কাছে স্বীকার করেন এবং স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ তার ছেলে বলেও জানান। তবে এ ব্যাপারে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। অনেকবার কল দেওয়ার পর তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ খবরের কাগজেকে বলেন, ঘটনাটি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি বিভাগে কর্মরত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাব খাটিয়ে সারের ডিলার নিয়েছেন মোহাম্মদ দাউদ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা এসব নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
এ দিকে হাতিয়া উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্থানীয় চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মনির উদ্দিন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চরকিং ইউনিয়নে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার গুদাম না থাকার পরও আকতার হোসেন নামে দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের এক ব্যক্তিকে ‘ওয়াসিম ট্রেডার্স’ নামে ডিলারশিপ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মো. মনির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, সরকারি সারের ডিলার নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারের গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিকটন হওয়া প্রয়োজন। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর গুদামের দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট। সে হিসাবে গুদামটির মেঝের আয়তন ৩২২ বর্গফুট। এতে ৮ থেকে ১০ মেট্রিক টনের বেশি সার রাখা যাবে না। যা উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হকের প্রত্যয়নপত্রেও উল্লেখ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অনিয়ম না হলে তাহলে কীভাবে পর্যাপ্ত গুদাম না থাকা প্রতিষ্ঠানকে ডিলারশিপ দেওয়া হচ্ছে? তার দাবি, এ উপজেলায় সার পাচারকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিজেরদের পছন্দের লোকজনের নামে সারের ডিলারশিপ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
ইকবাল হোসেন/এএফ
