ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল ২০২৭ আসরের জন্য দিল্লি ক্যাপিটালসের সহকারী এবং ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভারতের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। দলটির দীর্ঘদিনের অধরা প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে নতুন এই দায়িত্বে যোগ দিয়ে দলে আত্মবিশ্বাস, বহুমুখী কৌশল ও জয়ী মানসিকতা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এর আগে ২০১৫ সালের মৌসুমে ১৬ কোটি রুপিতে দলটিতে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও, এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার।
এই নিয়োগের ফলে দীর্ঘ দিন পর নিজের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আবারও জুটি বাঁধতে চলেছেন যুবরাজ। সম্প্রতি দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সৌরভ। গত তিন থেকে চার বছর ধরে কোচিং পেশার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন যুবরাজ। এতদিন ব্যক্তিগত পর্যায়ে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করলেও, এবার পুরো দলীয় পরিবেশে কাজ করার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকে শক্তিশালী দলীয় পরিবেশ তৈরির গুরুত্ব শিখেছেন বলে উল্লেখ করেছেন যুবরাজ। তার মতে, সৌরভ যখন অধিনায়ক ছিলেন, তখন থেকেই তিনি দলের খেলোয়াড়দের বিদেশে গিয়েও টুর্নামেন্ট জয়ের বিশ্বাস জোগাতে শুরু করেছিলেন। যুবরাজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে বড় ভাইয়ের মতো সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছেন সৌরভ। দল নির্বাচন বোঝা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হওয়ার মন্ত্র—সবকিছুতেই দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক। সৌরভের সেই অভিজ্ঞতা ও নিজের কৌশলগুলো এক করে দলের উন্নতির জন্য মুখিয়ে আছেন যুবরাজ।
কোচিং দর্শনের মূল মন্ত্র হিসেবে আত্মবিশ্বাসকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক যুবরাজ। তার মতে, এই উচ্চ পর্যায়ে সবাই দক্ষ এবং সবারই ভিন্ন কিছু দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তবে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি যখন কাউকে দলে টানে, তখন খেলোয়াড়দের নিজের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হয়। নিয়মিত অনুশীলন, খেলার সঠিক বোঝাপড়া এবং মাঠে নেমে পারফর্ম করার মাধ্যমেই এই আত্মবিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
দিল্লি ক্যাপিটালসের স্কোয়াড বিশ্লেষণ করে কে এল রাহুলের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটার এবং ট্রিস্টান স্টাবসের মতো রোমাঞ্চকর ক্রিকেটারের প্রশংসা করেছেন যুবরাজ। একই সঙ্গে সমীর রিজভী এবং আশুতোষ শর্মার মতো হার্ড-হিটার ব্যাটারদের উপস্থিতিও দলের ব্যাটিং শক্তিকে সমৃদ্ধ করছে। দলটির ব্যাটিং রিসোর্স ভালো থাকলেও সঠিক কম্বিনেশন তৈরি, ব্যাটিং গভীরতা বৃদ্ধি, মানসম্মত বোলিং এবং ফিল্ডিং বিভাগের উন্নতির ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। ২০২০ সালের ফাইনালে পৌঁছানো দিল্লি দলটিকে এবার শিরোপাজয়ী হিসেবে দেখতে চান এবং অতীতের ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়তে চান এই কোচ।
