ফেনীর ফুলগাজীতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে প্রার্থী হতে আগ্রহীদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক নিবাস হিসেবে পরিচিত এই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদে দলীয় সমর্থন চেয়ে ৩৪৭ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচিতিসহ জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল গত শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬৯ জন এবং সংরক্ষিত ও সাধারণ সদস্য পদে ২৭৮ জন প্রার্থী তাঁদের ফরম জমা দেন।
উপজেলা বিএনপির তথ্যমতে, চেয়ারম্যান পদে আবেদনকারীদের মধ্যে আমজাদহাট ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ১৯ জন, ফুলগাজী সদর ও মুন্সিরহাট ইউনিয়নে ১৬ জন করে, দরবারপুরে ৯ জন, জিএমহাটে ৭ জন এবং আনন্দপুর ইউনিয়নে সর্বনিম্ন ৪ জন প্রার্থী দলের সমর্থন চেয়েছেন। অন্যদিকে সদস্য পদে ফুলগাজী সদরে ৬১, আমজাদহাটে ৬১, জিএমহাটে ৫০, দরবারপুরে ৪০, মুন্সিরহাটে ৩৬ এবং আনন্দপুরে ৩০ জন ফরম জমা দিয়েছেন।
নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে দরবারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন জানান, তাঁর এলাকা দীর্ঘকাল ধরে উন্নয়নবঞ্চিত থাকায় তিনি একক প্রার্থী হিসেবে অবহেলিত অঞ্চলের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে আবেদন করেছেন। অপর এক প্রার্থী মুন্সিরহাট ইউনিয়নের মাস্টার আবুল কালাম ভূঞা বলেন, দলের পদ-পদবি বা পদে থাকা না থাকার চেয়েও জনগণের সেবা করে পাশে থাকাটাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।
ফুলগাজী সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে অন্যতম আবেদনকারী ও উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ মজুমদার জানান, একই পদে একাধিক প্রার্থী থাকা মানেই দলে কোন্দল নয়। দলের জন্য যাঁদের ত্যাগ ও সামাজিক জনপ্রিয়তা রয়েছে, তাঁদের বিবেচনা করেই চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করা হবে।
এ বিষয়ে ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন বলেন, স্থানীয় রাজনীতিতে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখা ও আগাম নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি নিতেই ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু ও দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে এই লিখিত আবেদন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
জেএইচআর
