নয়াদিল্লি, ১৫ অক্টোবর – প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নিজের দাবিতে অনড় থেকে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। যন্তরমন্তরে পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ধরপাকড় ও কড়া নিরাপত্তার মাঝেই আগামী কাল শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘ত্রিরঙ্গা পতাকা উড়িয়ে দাও’ নামের নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যুব সমাজের এই আন্দোলনকে ঘিরে জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গ্রেপ্তার ও পুলিশি বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি
এর আগে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তরমন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়াতে গিয়ে ককরোচ পার্টির দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন। ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং দলীয় সহযোদ্ধাদের মুক্তির দাবিতে এবার সেন্ট্রাল পার্কে প্রকাশ্য রাজপথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের এই নতুন ও সরাসরি কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিল্লিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিজিৎ দীপকে এবং দলের নেত্রী নেহা বোরা গত ১০ অক্টোবরের যন্তরমন্তরের আন্দোলন দমনের তীব্র সমালোচনা করেন।
সবকিছুই কি কেবল একজন জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচানোর জন্য?’
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিজিৎ বলেন, গত ১০ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ ও ছাত্ররা যন্তরমন্তরে জমায়েত হওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশি ব্যারিকেড ও ব্যাপক উপস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। যারা সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাদের সবাইকে জোরপূর্বক আটক করা হয়। এমনকি সেই সময় বিরোধী শিবিরের একাধিক হেভিওয়েট নেতাকেও আটক করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে অভিজিৎ বলেন, “দিল্লির রাস্তায় তরুণরা নিজেদের অধিকারের জন্য লড়ছে, আর পুলিশ তাদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে! নেহাকে আটক করা হলো, আয়েশা ও ভিল্লাজকে যেভাবে হেনস্তা করা হলো—সবকিছু কি কেবল একজন জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচানোর জন্য?”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার দেশের তরুণ সমাজের বিরুদ্ধে কার্যত ‘যুদ্ধ ঘোষণা করেছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি: সেন্ট্রাল পার্কে কাউকে ঘেঁষতে না দেওয়ার হুংকার
এদিকে, সিজেপির এই নতুন কর্মসূচি ঘিরে চরম সতর্কতা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। নিরাপত্তা সূত্রের খবর, শুক্রবার ককরোচ পার্টি কিংবা অন্য কোনো তরুণ সংগঠনকে রাজধানীতে কোনো ধরনের জমায়েত বা আন্দোলন করতে দেওয়া হবে না।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সেন্ট্রাল পার্ক এবং সংলগ্ন যন্তরমন্তর চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা—আইন অমান্য করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলন রাজধানী দিল্লির রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় প্রধান অভিজিৎ দীপকের ওপর পুলিশি নজরদারি ও আটকের ঘটনা, অন্যদিকে প্রশাসনিক চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।
এমন টানটান উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপির কর্মীরা শেষ পর্যন্ত পতাকা নিয়ে নামতে পারেন কি না, নাকি প্রশাসনের কঠোর হাতে তা আবারও দমিত হয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।
এনএন/ ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::দিল্লির রাজপথে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ: সেন্ট্রাল পার্কে ‘ত্রিরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক অভিজিৎ দীপকের first appeared on DesheBideshe.