‘ফাদার অব অল বোমস’ নামে নতুন অস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)।
এছাড়া গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দেড় গুণ বেড়েছে বলেও দাবি করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি।
বুধবার ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ইয়াং জার্নালিস্টস ক্লাব’ মোহেব্বির এক বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে।
মোহেব্বি বলেন, “আমরা ‘ফাদার অব অল বোমস’ উন্মোচনের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছি। এটি শত্রুর জন্য নতুন কিছু।”
তবে অস্ত্রটি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।
এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ (এমওএবি) বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। অস্ত্রটি ‘মাদার অব অল বোমস’ নামেও পরিচিত।
পরমাণু অস্ত্রের বাইরে প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের এই বোমা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় বিস্ফোরক।
২০১৭ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি সুড়ঙ্গে হামলায় প্রথমবারের মতো বোমাটি ব্যবহার করা হয়।
মোহেব্বি বলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দেড় গুণ বেড়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেননি তিনি।
তিনি বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্রের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এগুলোর পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতাও বেড়েছে।”
আইআরজিসির এ মুখপাত্র বলেন, ইরান তার প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তন আনছে। দেশটি এখন স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
মোহেব্বি বলেন, “আগে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ছিল পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক। আমরা বলতাম, কোনো দেশ আমাদের আক্রমণ করলে আমরা জবাব দেব।
“আর এখন আমরা বলছি, কোনো দেশ আমাদের আক্রমণ করলে শুধু জবাবই দেব না, পাল্টা আক্রমণও চালাব।”
তিনি বলেন, “আমরা শত্রুকে এমনভাবে আক্রমণ করব, যাতে তারা আমাদের জবাবের তীব্রতা অনুভব করতে পারে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে তা পরে ভেস্তে যায়।
