চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সুলতান আহমদ হলে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর : জাতীয় স্বার্থে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কোথায়? নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা প্রদান, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক গতকার বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে এনসিটি’র চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ আবদুর রহিম। প্রবন্ধে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল এনসিটি দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব, কৌশলগত নিরাপত্তা, দেশীয় ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। প্রবন্ধে আরও বলা হয়, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পদের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। টার্মিনালের মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল তথ্যের নিরাপত্তা, রাজস্ব বণ্টন এবং সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ক্ষমতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা থাকা প্রয়োজন।
প্রবন্ধের উপসংহারে বলা হয়, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিরোধী নয়; বরং এমন উন্নয়ন চায়, যা দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করবে, দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত রাখবে। চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল কিংবা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নয়; এটি জনগণের রাষ্ট্রীয় আমানত। তাই বন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনার প্রতিটি সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইউনুছ তৈয়বী যুক্তিবাদীর সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠক উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আলমগীর ইসলাম বঈদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব অধ্যক্ষ স.উ.ম.আবদুস সামাদ। আলোচনায় অংশ নেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান ফরিদ, অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, মাস্টার আবুল হোসাইন, এম. মহিউল আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, করিম উদ্দিন নুরী, ইয়াছিন হায়দারী, মুহাম্মদ আলী হোসাইন, শেখ সরোয়ার হোসাইন চৌধুরী, আর ইউ হাবিব, মুহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী, এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন, মিটুল দাশ গুপ্ত, রফিকুল ইসলাম, মাওলানা আবদুন নবী আল কাদেরী, মাওলানা শেখ আরিফুর রহমান, অধ্যক্ষ হাসান রেজভী, নাসির উদ্দীন মাহমুদ, আমান উল্লাহ আমান, হাফেজ নুর আলম, মুহাম্মদ ইউসুফ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খোরশেদ ইসলাম সুমন, ছাদেক হোসেন মানিক, সৈয়দ মুহাম্মদ ইয়াছির, হাবিবুল মোস্তফা সিদ্দিকী, বশির আহমদ চৌধুরী, নুর রায়হান চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান সাব্বির, কামাল উদ্দিন, মিজানুর রহমান, আলম রেজা, হেলাল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

