
যমুনা সেতু এলাকা এবং সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজের প্যাকেজ-৫-এর বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
শারদীয় দুর্গাপূজা ও আগামী ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যমুনা সেতু ও সংযোগ সড়কের চলমান উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই যমুনা সেতুর রেললাইনের অংশে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ করার পাশাপাশি সেতুর পট বেয়ারিং পরিবর্তন এবং অন্যান্য নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যমুনা সেতু এলাকা এবং সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজের প্যাকেজ-৫-এর বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে সেতু বিভাগের সচিব যমুনা সেতুর পট বেয়ারিং পরিবর্তন ও রেললাইনের অংশে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পট বেয়ারিং পরিবর্তনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় আগামী ঈদুল ফিতর-২০২৭-এর যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ঈদের আগেই সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দেন।
এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আওতায় যমুনা সেতু এলাকায় রোপণ করা চারাগুলো পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া সেতু এলাকায় নির্মাণাধীন মিউজিয়াম ভবনের কাজের অগ্রগতিও ঘুরে দেখেন। নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে ভবনটির কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেন তিনি।
সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন এলেঙ্গা ফ্লাইওভার পরিদর্শনকালে কাজের গুণগত মানে সন্তোষ প্রকাশ করেন সেতু বিভাগের সচিব। তবে নির্মাণকাজের গতি ধীর হওয়ায় দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেন তিনি।
এলেঙ্গা-যমুনা সেতু সড়কের প্যাকেজ-৫-এর আওতায় সল্লা বাজার এলাকায় ওভারপাস নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই এলাকার সড়কের দুই পাশে সংযোগ সড়ক, রেলক্রসিং, হাটবাজার, ঈদগাহ মাঠ, মাদ্রাসা, প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয় এবং কৃষিজমি রয়েছে। এসব স্থানে যাতায়াতের প্রয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায়ই হালকা ও ভারী যানবাহনে সড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে চলাচল করতে হয়।
এ অবস্থায় সল্লা বাজার এলাকায় ওভারপাস নির্মাণের যৌক্তিকতা বিবেচনা করে সেতু বিভাগের সচিব তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় ওই স্থানে ওভারপাস নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সল্লা বাজার এলাকায় ওভারপাস নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন করেছেন। ওভারপাস নির্মাণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সংশ্লিষ্ট অংশে সড়ক নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে যমুনা সেতুর অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন সেতু বিভাগের সচিব। এ সময় যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সেতু এলাকায় উল্লেখযোগ্য যানজট না থাকায় তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যমুনা সেতুর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও সাসেক-২ প্রকল্পের কর্মকর্তারা এবং ঠিকাদারি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
