যে কোনও মিষ্টি স্বাদের জিনিসের প্রতিই প্রবল আগ্রহ থাকে শিশুদের। বিশেষত কোক, কোল্ড ড্রিঙ্ক, প্যাকেট জাত কার্বোনেটেড অথবা মিল্ক-বেসড ড্রিঙ্ক বেশিরভাগ শিশুরই বিশেষ পছন্দের। তবে তা যে শরীরের পক্ষে বিশেষ সুবিধাজনক নয়, অভিভাবকরা সকলেই প্রায় সে কথা জানেন (Parenting Tips)।
কিন্তু ঠান্ডা পানীয়ের প্রতি এই টান কমানো যায় কীভাবে? বাধা দিলে বেঁকে বসে শিশুটি, কান্নাকাটি করে। জোর করলে হীতে বিপরীত হয়। কী করা যায় তবে? কীভাবে বিরোধে না গিয়ে, ধীরে ধীরে এমন পানীয়র থেকে দূরে করা যায় শিশুদের, জেনে নিতে পারেন অভিভাবকেরা। মেনে চলুন ৫টি সহজ টোটকা।
১। জল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন
গরমে তেষ্টা পেলেই মিষ্টি পানীয় হাতে তুলে দেন অনেকেই। তার বদলে জল খেতে উৎসাহ দিন। ডাবের জল, টাটকা ফলের রস, লেবুর শরবত— প্রভৃতি দিয়েই অভ্যাস করান তাকে। কখনও সাধারণ জলে ভাসিয়ে দিন কমলালেবু, শসা অথবা পাতিলেবুর টুকরো।
২। ধীরে ধীরে কমান মিষ্টি পানীয়
শিশু যদি রোজ কোক জাতীয় পানীয় পানে অভ্যস্ত হয়ে গিয়ে থাকে, তবে তা একেবারে বন্ধ না করে ধাপে ধাপে পরিমাণ ও খাওয়ার সংখ্যা কমান। এতে নতুন অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সুবিধা হবে। অনেকেই শিশুর এই অভ্যাস কাটানোর জন্য অর্ধেক গ্লাস কোল্ড ড্রিঙ্কের সঙ্গে অর্ধেক গ্লাস জল মিশিয়ে দেন। মুখে বিস্বাদ লাগলে, আসতে আসতে সেই খাদ্য বা পানীয়র প্রতি আশক্তি কাটে শিশুদের।
৩। বাড়িতে মজুত রাখবেন না চিনিযুক্ত পানীয়
চোখের সামনে থাকলে শিশু সেগুলি পান করতে চাইবেই। তাই বাড়িতে কোল্ড ড্রিঙ্ক, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত প্যাকেটজাত ফলের রস বা এনার্জি ড্রিঙ্ক মজুত না রাখাই ভালো। বড়রা নিজেদের জন্য এনে রাখতে চাইলে, তা শিশুর নাগাল থেকে যথাসম্ভব সরিয়ে রাখা উচিত।
৪। নিজেরাও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন
শিশুরা বড়দের দেখেই অনেক অভ্যাস শেখে। তাই অভিভাবকেরাও নিয়মিত জল পান করুন এবং সফট ড্রিঙ্কের বদলে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর পানীয় জুড়ে নিন রোজের খাদ্যতালিকায়। পরিবারের সবাই একই অভ্যাস মেনে চললে শিশুকে বোঝানো সহজ হবে।

৫। বিকল্প দিন, জোর করবেন না
শিশুকে ঠান্ডা জল, সাধারণ দুধ কিংবা ফলের রস দিতে পারেন। ধীরে ধীরে সু-অভ্যাস গড়ে তুলুন। তবে যে অভ্যাস প্রাথমিকভাবে বাবা-মায়ের কারণেই গড়ে উঠেছে, তা ছাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত জোরজার বকাবকি করবেন না। এতে শিশুরা জেদি হয়ে ওঠে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
শিশুর তেষ্টা যদি অস্বাভাবিক রকম বেড়ে যায় এবং তার সঙ্গে ঘন ঘন প্রস্রাব, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
