সাকিবুল হাছান
২০১৭ সালে ১০ বছর বয়সে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসে মিশাবুর রহমান। এখন ১৯ বছর বয়সী এই রোহিঙ্গা তরুণের জীবনের প্রায় নয় বছর কেটেছে শরণার্থী ক্যাম্পে। তাঁর অভিজ্ঞতায়, ক্যাম্পে বেড়ে ওঠা শিশুদের জীবন শুধু টিকে থাকার গল্প নয়; এটি ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ খোঁজারও গল্প।
ক্যাম্পে কেউ শেখার কেন্দ্রে যায়, কেউ পরিবারের কাজে সাহায্য করে, কেউ আবার সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা করে। কিন্তু সব শিশুর জন্য শিক্ষা, নিরাপদ খেলার জায়গা কিংবা দক্ষতা বিকাশের সুযোগ সমান নয়। ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ, সীমিত শিক্ষার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাদের বেড়ে ওঠাকে কঠিন করে তোলে।
UNICEF-এর ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৫–১৭ বছর বয়সী ২ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। অন্যদিকে, UNHCR-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্প ও ভাসানচরে ৩–১৮ বছর বয়সী ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৮ জন শিশু শিক্ষা-সেবা পেয়েছে।
তবে শিক্ষা-সেবা পাওয়া মানেই নিয়মিত ও ধারাবাহিক শিক্ষা নিশ্চিত হওয়া নয়। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু-কিশোরদের সামনে পরবর্তী ধাপে পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও খেলাধুলার সুযোগ। কারণ নিরাপদ শৈশব শুধু একটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
মিশাবুরের পর্যবেক্ষণে, ক্যাম্পের অনেক শিশু ভবিষ্যতে চিকিৎসক, শিক্ষক কিংবা নিজেদের জনগোষ্ঠীর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে। কিন্তু স্বপ্ন দেখা আর সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাওয়া এক বিষয় নয়।
রোহিঙ্গা শিশুরা শুধু সহায়তার প্রয়োজন থাকা একটি জনগোষ্ঠী নয়; তাদেরও নিজস্ব স্বপ্ন, প্রতিভা ও সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
কারণ একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শুধু সে কোথায় জন্মেছে, তা দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। স্বপ্ন যদি থাকে, সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকতে হবে।
