ফতুল্লায় শাহ নিজামের অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা কালাম গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বৈষম্য বিরোধী মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী ও শাহ নিজামের অন্যতম সহযোগী নানা অপকর্মের হোতা আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লার লালখাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আবুল কালাম ফতুল্লার লালখাঁ এলাকার শুক্কুর মুন্সির ছেলে। এলাকাবাসী জানান, কালাম আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ার সুবাদে বিগত আওয়ামী শাসন আমলে নিজেকে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজামের লোক পরিচয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এমনকি বিচারের নামে এলাকার নিরীহ লোকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো। আওয়ামী লীগ পতনের পর বোল্ড পাল্টে বিএনপির কিছু নেতার সাথে আতাত করে এলাকায় অপকর্ম করার অপচেষ্টা চালায়। এমনকি কিছু নিরীহ ভাড়াটিয়াদের দূর্বলতার সুযোগে ফিটিং দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুব আলম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী মামলা রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেশা হবে।

আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক। যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়। তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

বাংলাদেশ গড়তে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা চাই: প্রধানমন্ত্রী
যে বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশের মানুষ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময় অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন সেই কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়তে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন এদেশে জন্ম নিয়েছি এদেশে বড় হয়েছি- আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশী। এই দেশের ওপর আমাদেও প্রত্যেকের সমান অধিকার রয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের জে এম সেন হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মত বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মানুষ জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিল। যুদ্ধের মাধ্যমে এই প্রিয় মাতৃভূমিকে তারা ছিনিয়ে এনেছে। সেদিন শত হাজার লক্ষ মানুষ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। কয়েক লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে। যারা যুদ্ধ করেছিলেন যারা শহীদ হয়েছিলেন সেদিন আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ আর কে খৃষ্টান। সেদিন আমরা কারো ধর্ম দেখিনি, শুধু দেখেছি তারা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। এই স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখিন হয়েছে এবং তখনও ছাত্র জনতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা রাজপথে নেমে এসেছিল গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, জনগণের কথা বলার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সেদিনও কিন্তু আমরা দেখিনি আমার পাশের কর্মিটা কোন ধর্মের। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে এদেশের ছাত্র-জনতা এক স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে। সারাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ সেদিন রাজপথে বেরিয়ে এসেছিলেন। বিভিন্ন বয়সের মানুষ, মা বোনেরা, তরুণ, যুবক, শিশুরা সেদিন বেরিয়ে এসেছিলেন। সেদিন আমরা কেউ জিজ্ঞেস করিনি গুলি খাওয়া মানুষটা কি মুসলমান নাকি হিন্দু। স্বৈরাচার গুলি করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে, আমার ভাই শহীদ হয়েছে আমার ভাই আহত হয়েছে। সবাই তাদের ধরাধরি কেের হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে। যাবার পথে কেউ জিজ্ঞেস করেনি কী তার ধর্ম পরিচয়? তিনি বলেন, এদেশ আপনার-এদেশ আমার, এদেশ আমাদের সকলের। আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন প্রত্যেকটা মানুষ আমরা বাংলাদেশী। এদেশে জন্ম নিয়েছি এদেশে বড় হয়েছি- আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশী। এই দেশের আইন আমার জন্য যেভাবে প্রযোজ্য আপনার জন্যও সেভাবে প্রযোজ্য। এই দেশের আমার যে অধিকার আছে আপনারও সেই অধিকার আছে। এই রাষ্ট্র আপনাকে যা দেবে আমাকেও তা দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন, চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান- সবকিছুরই একটাই লক্ষ্য ছিল এমন একটি বাংলাদেশ গড়া যেখানে আমরা সকলে মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করবো। আসুন আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলি। যে বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন সময় দলমত নির্বিশেষে আমরা অকাতরে রক্ত দিয়েছি। সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি যে ধর্মেরই হোন আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবোনা। কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়তে সকলের সহযোগিতা চাই। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পন ব্যানার্জি বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে আমাদের একটি দলের লোক বলে আখ্যায়িত করা হতো। বিগত ১২ ফেব্রæয়ারির নির্বাচনে আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি আমরা কোন দলের লোক নই। আমরা এদেশকে ও ৭১কে ভালবাসি এবং আমরা জানি বিএনপি মুক্তিযোদ্ধার দল। ১২ ফেব্রæয়ারির নির্বাচনে ৯৫% সনাতনী ভোটার ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সেটা প্রমাণ করেছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা আতংকিত অবস্থায় ছিলাম। ওই সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা আমাদের পাশে থেকে মন্দির পাহারা দিয়েছেন। যে কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোন সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস হয়নি। তিনি সীতাকুন্ডে ধর্মীয় তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ ধামকে জাতীয়করণ, বোয়ালখালীতে মেধস মুনি আশ্রমের উন্নয়ন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে হিন্দু ফাউন্ডেশনে রূপান্তর ও সনাতনী সম্প্রদায় সুরক্ষা বোর্ড গঠনের দাবি জানান। এর আগে রাজশাহী থেকে একটি সামরিক বিমানে রাত ৭টা ৩৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। সেখান থেকে সড়কপথে সরাসরি জে এম সেন হলে পৌঁছেন। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে নগরীর জে এম সেন হল সংলগ্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন বয়সের নারী-শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায়। এসময় মানুষের ভিড় সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সীমাহীন বেগ হতে হয়। রাত সাড়ে আটটা বিশ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসটি অনুষ্ঠানস্থলের কাছে এসে পৌঁছলে উপস্থিত জনতা মুহুর্মুহু শ্লোগানে তাঁকে স্বাগত জানান। এসময় বাস থেকে হাত নেড়ে জনতাকে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। চট্টগ্রামে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে দেশের কোন সরকার প্রধানের এটিই প্রথম উপস্থিতি। যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সনাতনী সমাজের মধ্যে ছিল অন্যারকম উৎসাহ উদ্দীপনা। জে এম সেন হলের অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী হোটেল রেডিসনে যান। সেখানে দলীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।###২০.১০.২০২৬

সাংবাদিক নিজামুল আলম মোরাদের পিতার জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ নিজামুল আলম মোরাদ এর পিতা আব্দুর রাজ্জাক রাজা মিয়ার জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল। কাশিয়ানী উপজেলার খায়ের হাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজায় দুই হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেয়। মরহুমের বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি বহুবিধ সামাজিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত ছিলেন। আব্দুর রাজ্জাক রাজামিয়া ফরিদপুর জজ কোর্টের জজ সাহেবের বিচারকার্যে জুড়িদার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন দীর্ঘদিন। তিনি এক সময় কাশিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২৮ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম তিনি ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে যুগ যুগ দ্বায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ও দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী কাশিয়ানী জিসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সদস্য, সহ-সভাপতি, ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৫০ বছরের অধিক সময় যাবত গ্রামীণ শালিশ দরবার আপস মীমাংসা করে মানুষের কল্যাণ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর। তার মৃত্যুতে জাতীয় সংসদ সদস্য গোপালগঞ্জ এক সেলিমুজ্জামান সেলিম শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম, যুবদলের আহবায়ক এনামুল হক শিমুল সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম পাবেল, সেবক দলের সভাপতি মোঃ মিলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সমাধান জানিয়েছেন। তাকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে আটপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় আটপাড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের সামনে সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আটপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ঐশী বাংলার উপজেলা প্রতিনিধি সাইফুল আলম সোহেল, আটপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিনের প্রতিনিধি ফজলুল করিম আঙ্গুর, সহসভাপতি আমির খসরু স্বপন ও শ্যামল চন্দ্র শ্যাম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ, দৈনিক আজকের পত্রিকার আটপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি ফয়সাল চৌধুরী, এশিয়া বাণীর প্রতিনিধি মো. আনোয়ার হোসেন শফিক, দেশবার্তার জেলা প্রতিনিধি সুমন আহমেদ, অপরাধ তথ্যচিত্রের আশরাফুল আলম, রূপসী বাংলা টিভির রুবেল মিয়া এবং সিলেট টু আমেরিকা টিভির প্রতিনিধি বাবলু। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করে সত্য প্রকাশের পথ বন্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। বক্তারা নিহত সাংবাদিকের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, পরিবারের নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহত সাংবাদিকের পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

