কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কের একই স্থানে একই দিনে দুই দফা গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে অর্ধশতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়েছে মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল।
সোমবার সকাল ও দুপুরে সড়কের হিমছড়ি ঢালা এলাকায় পৃথকভাবে এই দুটি গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। দিনের বেলাতেই একই স্থানে বারবার ডাকাতির ঘটনায় সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
ডাকাতির শিকার হওয়া যাত্রী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাতটার দিকে ঈদগাঁও থেকে ঈদগড়গামী চারটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও দুটি টমটমের (ইজিবাইক) গতিরোধ করে পাহাড়ের ঢালে ওৎ পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ডাকাত। পরে তারা যাত্রীদের জিম্মি করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুর সোয়া দুইটার দিকে একই স্থানে আবারও হামলা চালায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। তারা সড়কের দুই পাশ থেকে আসা অটোরিকশা, টমটম ও মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দফার ডাকাতির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন উন্নয়ন সংস্থা ‘মুক্তি কক্সবাজার’-এর ঈদগড় শাখার সহকারী হিসাব কর্মকর্তা আবদুল হাকিম, সুপারস্টার কোম্পানির প্রতিনিধি রবিউল এবং এনজিও সংস্থা ‘ইপসা’-র কর্মী ইমন ও পিউ চাওদা ইকরামা। তাদের দাবি, ডাকাত দল তাদের কাছ থেকে নগদ প্রায় এক লাখ টাকা ও কয়েকটি দামি মুঠোফোন লুটে নিয়েছে।
খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশের পাহাড়ি জঙ্গলে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে ডাকাতদের ব্যবহৃত নেকাব, বোরকা ও জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ‘ডাকাতিপ্রবণ’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত সড়কটিতে পুলিশের নিয়মিত টহল দেওয়ার কথা থাকলেও ঘটনার সময় পুলিশকে দেখা যায়নি। এতে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়দের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে ঈদগাঁও থানার ওসি টি এম সিফাতুল মাজদার বলেন, ডাকাতির সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে গহিন পাহাড়ি জঙ্গলে তল্লাশি চালায়। ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
