সৌদি আরব এবং ভারতের মধ্যে বিমান চলাচলে সাম্প্রতিক বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ওমরাহ যাত্রীদের নিয়মিত ফ্লাইট সচল থাকা বা বাতিল হওয়ার তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে জেদ্দায় অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল ২৪ ঘণ্টার একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে।
কেবল ভারত নয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের আরও অনেক দেশই সৌদিগামী ফ্লাইট দীর্ঘ সময়ের জন্য বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে যারা ওমরাহর জন্য টিকেট কেটেছিলেন কিংবা ওমরাহর পরিকল্পনার করছিলেন সবাইকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অনেক ওমরাহ যাত্রী সৌদি থেকে দেশে ফেরার পথেও একই ধরনের বিকাপে পড়ছেন। সৌদি সাধ্যমতো পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে। তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা সমীকরণে সেই চেষ্টাও অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে।
কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ ভ্রমণ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে সৌদি আরবে যাত্রার পরিকল্পনা করছেন এমন ওমরাহ যাত্রীদের বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যেসব যাত্রী নিজেদের ভ্রমণসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, তারা ফ্লাইট বাতিল বা সৌদিতে অবস্থান দীর্ঘায়িত হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি এড়াতে নিজেদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পর্যালোচনার কথা ভাবতে পারেন। বিশেষ করে জেদ্দা ও মদিনা হয়ে যাওয়া-আসার বিমান ফ্লাইটগুলো বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক বিমান সংস্থা তাদের সৌদিগামী ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাড়িয়েছে। ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনাগামী এবং সেখান থেকে ফিরতি সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করা ওই নির্দেশনায় বিমান সংস্থাটি জানায়, বুকিংয়ের সময় দেওয়া যোগাযোগের ঠিকানা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যেসব যাত্রী এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কেটেছেন, তাদের সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে আকাসা এয়ারও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে রিয়াদগামী ফ্লাইট ২৪ অক্টোবর এবং জেদ্দাগামী ফ্লাইট ২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্লাইট বাতিলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য দুটি বিকল্প সুবিধা রাখছে এয়ারলাইন্সটি। যাত্রীরা চাইলে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত নিতে পারবেন, যা সাত দিনের মধ্যে মূল পেমেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে; অথবা কোনো বাড়তি ফি প্রদান ছাড়াই যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন। অন্যান্য মাধ্যম থেকে টিকিট সংগ্রহকারীদেরও স্ব-স্ব এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পরিচালনাকারী সংস্থা দুটিই স্পষ্ট করেছে যে, যাত্রী ও বিমান কর্মীদের নিরাপত্তাকে তারা সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
