Published on
:
2 min read
এই সময়: শুরুটা হয়েছিল একেবারে ছোট্ট করে। সময়ের সঙ্গে সেই আয়োজনই হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও মিলনমেলার অন্যতম বড় ঠিকানা। দেখতে দেখতে ৭৫ বছরে পা দিল কালীপার্ক ইউনাইটেড ক্লাব পরিচালিত কালীপার্ক সর্বজনীন দুর্গোৎসব। প্ল্যাটিনাম জুবিলির এই বিশেষ বছরে এখানকার পুজোর ভাবনা ‘অকালবোধন’। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের সাফল্য এবং আগামী দিনের স্বপ্নকে একসূত্রে বাঁধতেই উদ্যোক্তাদের এই আয়োজন।
এ বছর এখানকার পুজোর উদ্বোধন করেছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জয়াপ্রদা এবং রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরও অনেক বিশিষ্টজন। পুজোর সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত বড়াল ও অশোক পাল। ৭৫ বছরের এই দীর্ঘ পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে এ বার শুধু দেবী আরাধনাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না উদ্যোক্তারা। বরং পুজোকে ঘিরে এলাকার মানুষের অবদান, সাফল্য ও সামাজিক বন্ধনকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।প্ল্যাটিনাম জুবিলি উপলক্ষে সাজানো হয়েছে একাধিক সমাজসেবামূলক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, সিবিএসই ও আইসিএসই পরীক্ষায় সফল কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা জানানো হবে। সম্মানিত হবেন এলাকার প্রবীণ নাগরিকেরাও। পাশাপাশি, গত ৭৫ বছরে যাঁরা পুজো কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন, তাঁদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকার যে সব ক্লাবের দুর্গাপুজো বা কালীপুজো এ বছর গোল্ডেন, ডায়মন্ড বা প্ল্যাটিনাম জুবিলিতে পা দিয়েছে, তাদেরও সম্মান জানানো হবে। অর্থাৎ, নিজেদের সাফল্যের উদ্যাপনের পাশাপাশি অন্যদের দীর্ঘ পথচলাকেও কুর্নিশ জানাতে চায় কালীপার্ক।
উৎসবের দিনগুলিতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্যুইজ়, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা ও ম্যাজিক শো। মহাষ্টমীতে সর্বসাধারণের জন্য ভোগ বিতরণ করা হবে। বিজয়া দশমীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পরে আয়োজিত হবে ৭৫তম বর্ষের বিজয়া সম্মিলনী। উদ্যোক্তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুরোধ মেনে এ বছর কোনও সরকারি অনুদান গ্রহণ করেনি পুজো কমিটি। ঐতিহ্য, সম্মান ও মানুষের অংশগ্রহণকে সঙ্গী করে তাই কালীপার্কের প্ল্যাটিনাম জুবিলি শুধু একটি পুজোর মাইলফলক নয়, হয়ে উঠতে চলেছে এলাকার সম্মিলিত আবেগের উদ্যাপন।
