কৃষি ও খাদ্যশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘ফার্ম টু ফুড বাংলাদেশ ২০২৬’।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, ডেইরি, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার, কোল্ড চেইন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্মার্ট ফুড ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ইয়োরিস ফান বমেল, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড ডেভেলপমেন্ট ব্যুরোর উপপরিচালক শি ঝুও, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ, বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএ) সভাপতি কৃষিবিদ মোহাম্মদ মাসুম এবং বাংলাদেশ চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মো. খোরশেদ আলম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও কৃষি উন্নয়নকর্মী শাইখ সিরাজ এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়জুল আলম।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষি ও খাদ্যভিত্তিক শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং খাতের উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এ প্রদর্শনীর অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সহযোগিতা জোরদার ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষি যন্ত্রপাতি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি, প্যাকেজিং সমাধান, ডেইরি প্রযুক্তি, মাংস ও জলজসম্পদ প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড চেইন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও পণ্য তুলে ধরছে।
‘ফার্ম টু ফুড বাংলাদেশ ২০২৬’ মূলত একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বিটুবি) প্ল্যাটফর্ম। এতে দেশি-বিদেশি প্রস্তুতকারক, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবেশক, বিনিয়োগকারী এবং শিল্প খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যশিল্পের আধুনিকায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং টেকসই শিল্পোন্নয়নের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
প্রদর্শনীর ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে রয়েছে পোস্টমাস্টার কমিউনিকেশন। ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি ব্যবসায়িক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
