সাহাবি হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। কেউ অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে সে যেন বাঁ দিকে তিনবার থুথু ফেলার মতো করে হালকাভাবে ফুঁ দেয় এবং শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে। তাহলে সেই স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। -সহিহ বোখারি: ৬৯৯৫
হাদিসের শিক্ষা ও বিধান
এক. ভালো স্বপ্ন আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সুসংবাদ হতে পারে। ভালো স্বপ্ন মানুষের মনে আনন্দ, প্রশান্তি ও আশার সঞ্চার করে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ হতে পারে। তাই ভালো স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।
দুই. খারাপ স্বপ্ন দেখে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে মানুষকে ভয় দেখানো ও দুশ্চিন্তায় ফেলার একটি মাধ্যম হতে পারে। তাই এমন স্বপ্ন দেখলে ভয় পেয়ে অস্থির হওয়া কিংবা ভবিষ্যতে অমঙ্গল ঘটবে বলে নিশ্চিত ধারণা করা উচিত নয়।
তিন. অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে তিনবার হালকাভাবে ফুঁ দিতে হবে। হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে বাঁ দিকে তিনবার থুথু ফেলার মতো করে হালকাভাবে ফুঁ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি নবী কারিম (সা.)-এর শেখানো একটি আমল। এখানে প্রকৃত থুথু ছিটিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে হালকাভাবে ফুঁ দেওয়ার পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়।
চার. শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে। খারাপ স্বপ্ন দেখলে ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ অর্থাৎ ‘বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি’ বলতে হবে। কারণ প্রকৃত নিরাপত্তা ও আশ্রয় একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।
পাঁচ. খারাপ স্বপ্ন নিয়ে অহেতুক আলোচনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপছন্দনীয় স্বপ্ন অন্যদের কাছে বলে বেড়ালে অযথা ভয়, উদ্বেগ ও ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এমন স্বপ্ন প্রচার না করে এ বিষয়ে বর্ণিত সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করাই উত্তম।
ছয়. স্বপ্নের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখলেই তার জীবনে বিপদ, অসুস্থতা কিংবা অমঙ্গল ঘটবে- এমন ধারণার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। স্বপ্নের ভিত্তিতে কারও সম্পর্কে খারাপ ধারণা করা, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা নিজের জীবনকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তোলা উচিত নয়।
সাত. হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্বপ্নে দেখা মানে তাকেই স্বপ্নে দেখা। কেননা হাদিসে নবী কারিম (সা.) জানিয়েছেন, শয়তান তার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। এটি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
