চট্টগ্রামের পটিয়ায় চালককে অজ্ঞান করে ১৫ টন চিনিসহ একটি কাভার্ডভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। লুট হওয়া চিনির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার ভোররাতে উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সড়কের পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অচেতন চালকের নাম আলমগীর (৪৫)। তিনি চাঁদপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৯টার দিকে আবুল কালাম নামের অপর এক কাভার্ডভ্যানচালক আলমগীরকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। আবুল কালাম জানান, রাস্তার পাশে আলমগীরকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় আলমগীরের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শামা জানান, অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শরীরে চেতনানাশক কোনো পদার্থ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জ্ঞান ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যানটির মালিক জাহিদ ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে গাড়িটি মইজ্যারটেক এলাকায় ছিল। সে সময় চালক গাড়ির কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কথা তাকে জানিয়েছিলেন। পরে বুধবার সকাল ৯টার দিকে চালককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার খবর পান তিনি।
জাকির হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেঘনা কোম্পানির চিনি নিয়ে কাভার্ডভ্যানটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথে চট্টগ্রাম নগরের নাসিরাবাদ এলাকায় ফুলকলি কারখানায় ১৩ টন চিনি সরবরাহ করা হয়। এরপর পটিয়ার ফুলকলি কারখানার উদ্দেশ্যে আরো ১৫ টন চিনি নিয়ে গাড়িটি রওনা হয়। তবে এর পরেই ১৫ টন চিনিসহ কাভার্ডভ্যানটি ছিনতাই হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় চালক কীভাবে অচেতন হয়েছেন এবং কাভার্ডভ্যানটি কীভাবে ছিনতাই হলো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এ ঘটনায় তারা এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি। তবে এমন একটি ঘটনার খবর তারা পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এমই
