৩৮ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৩৮ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন রিপোর্ট
প্রতীকী ছবি। স্টার ডিজিটাল গ্রাফিক্স
গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন।
আজ শনিবার সকালে গাজীপুরের টঙ্গী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ও মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হন। দুর্ঘটনায় বাসের অন্তত আরও ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
তারা হলেন, সৌরভ (৩২) ও আসিফ (২৬)। নিহতরা দুইজনই বাসের যাত্রী ছিলেন।
সৌরভের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে৷ তবে আসিফের ঠিকানা জানা যায়নি।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, রংপুর থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা দিগন্ত পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বালুভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়কে উল্টে যায়।
তিনি আরও জানান, পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসিফ ও সৌরভের মৃত্যু হয়। আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
গাজীপুরের টঙ্গী গাজীপুরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
তারা হলেন তপন চন্দ্র দাস (৫০) ও তার ছেলে লিখন চন্দ্র দাস (২০)। তাদের বাড়ি শেরপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কৈবর্তপাড়া এলাকায়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ডিউটি অফিসার নুরেজা আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সকালে বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি হোটেলের পাশে মহাসড়কে দুইজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে সময় একটি অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তারা গুরুতর আহত হন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক লিখনকে মৃত ঘোষণা করেন। তপনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সকাল ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ময়নাতদন্তের জন্য বাবা-ছেলের মরদেহ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে, বলেন টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকছুদুল আলম।
এর আগে ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেন থেকে বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন।
হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ডভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন পার হয়ে পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়।
নিহতরা হলেন—চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মৃত আজিবর রহমানের ছেলে রোকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৭), একই উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার শ্রী মিলন কুমারের ছেলে শ্রী চঞ্চল বিশ্বাস (২৩) ও শিবনগর এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে সালাউদ্দিন আহমেদ সাকিব (৩২)।
তাদের মধ্যে রঞ্জু দর্শনা পরিবহনের সুপারভাইজার, চঞ্চল হেলপার ও সাকিব বাসের যাত্রী ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, শ্রীনগর স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১১ জনকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সে সময় পাঁচজনকে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহরিয়ার জানান, আহত ১১ জনের মধ্যে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে।
সোহেল জানান, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
