দু’টি মানুষের মধ্যে দুর্দান্ত কেমিস্ট্রি রয়েছে। একে অপরের প্রতি শারীরিক ভাবে আসক্ত। কিন্তু দু’জনের মনের দূরত্ব বহু যোজন। ঠিক এই মানসিক দূরত্বকেই বলা হচ্ছে ‘গ্লুয়িং’। যেখানে আবেগ বা ভালোবাসার টান ফিকে হয়ে গেলেও কেবল শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকে আঠা বা ‘গ্লু’-এর মতো ব্যবহার করে সম্পর্কটিকে কোনওমতে টিকিয়ে রাখা হয়। কিন্তু কেবল শারীরিক সম্পর্ক কি একটি সম্পর্ককে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারে? এ প্রসঙ্গে মনোবিদরা কী বলছেন?
১. শারীরিক ঘনিষ্ঠতাই যখন সম্পর্কের মূল ভিত্তি
‘গ্লুয়িং’-এর ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ, বিশ্বাস কিংবা মানসিক মেলবন্ধনের জায়গাটি দখল করে নেয় যৌনতা ও শারীরিক আকর্ষণ। আকর্ষণের অনুভূতির মধ্যেও কোনও মিথ্যা থাকে না, সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে সম্পর্কটি সত্যিই সুস্থ নাকি কেবল শারীরিক চাহিদা দিয়েই সমস্ত সন্দেহ ও দূরত্বকে ঢেকে রাখা হচ্ছে।
২. সমস্যা মিটে গিয়েও বারবার ফিরে আসে
এই ধরনের সম্পর্কে সঙ্গীরা ঝগড়া করেন, দূরত্ব তৈরি হয়, এবং তার পর শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে আবার মিটমাট হয়ে যায়। কিন্তু যে বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে কেউ মুখ খোলেন না। ফলে ক্ষণিকের জন্য ভালো লাগলেও মূল সমস্যাটি থেকে যায় অধরাই। ফলস্বরূপ, দম্পতিরা একই চক্রে বারবার ঘুরপাক খেতে থাকেন।
৩. তীব্র আকর্ষণ সম্পর্ক ভাঙার পথ কঠিন করে দেয়
শারীরিক আকর্ষণ যত বেশি হয়, সম্পর্কের অন্যান্য গলদ এড়িয়ে যাওয়া ততটাই সহজ হয়ে পড়ে। বিছানায় সুন্দর সময় কাটানোর পরে সঙ্গীরা নিজেদের বোঝান যে বাকি সব সমস্যা হয়তো সময়ের সঙ্গে এমনিই ঠিক হয়ে যাবে। এর ফলে সম্পর্কের ত্রুটি নিয়ে কঠিন প্রশ্ন তোলা বা সেই ক্ষতিকর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।