দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ডায়ালাইসিসে বেঁচে থাকার লড়াই ১৯ বছরের তরুণ ওয়াজি তাফসির হেলালির। কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে সপ্তাহে দুবার ছুটে আসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক)। ভর্তুকিমূল্যে ডায়ালাইসিসের সুযোগ আগামী নভেম্বরের পর বন্ধের খবরে অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছে তাকে।
ডায়ালাইসিস রোগী তাফসির হেলালি জানান, এখন ভাবছি, এখানে যদি ডায়ালাইসিস বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমার ভবিষ্যৎ কী হবে? এ নিয়ে আমার পরিবারে অনেক দুশ্চিন্তা রয়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। এতগুলো রোগী বাইরে কোথায় গিয়ে ডায়ালাইসিস করাবেন?
২০১৭ সালের ৪ মার্চ চমেক হাসপাতালের নিচতলায় চালু হয় স্যান্ডোর ডায়ালাইসিস সেন্টার। বাইরে ডায়ালাইসিসে কমবেশি তিন হাজার টাকা খরচ হলেও, এখানে মাত্র ৬২১ টাকায় মেলে এই সুবিধা। যেখানে ২ হাজার ৭৭৬ টাকা ভর্তুকি দেয় সরকার। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান স্যান্ডোরের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২৯ নভেম্বর শেষ হওয়ার পর এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিশেহারা কিডনি রোগীরা।
শঙ্কা প্রকাশ করে কয়েকজন ডায়ালাইসিস রোগী জানান, আমরা একেবারেই গরিব মানুষ। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই আমাদের কষ্ট হয়। এমন অবস্থায় এখানে ডায়ালাইসিস বন্ধ হয়ে গেলে আমরা কীভাবে চলব? তখন আমাদের বেঁচে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না—এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে। আমরা এখানে ৬২১ টাকা দিয়ে ডায়ালাইসিস করাই, কিন্তু অন্য কোথাও গিয়ে এই খরচ বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া, এখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে। এই সেবা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের অনেক কষ্ট হবে। সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতে যে খরচ হয়, স্যান্ডোরের সেবা বন্ধ হয়ে গেলে সেই খরচ বহন করা কঠিন হবে। ফলে রোগীদের বাঁচিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
স্যান্ডোরের কর্মকর্তারা জানান, নভেম্বরের পর চালু রাখার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা পাননি তারা।
এদিকে, স্যান্ডোরের সহকারী ব্যবস্থাপক তায়েফ রহমান বলেন, আমাদের ১০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমরা দাম কমিয়ে নতুন করে সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। এখন আমরা সরকারের উত্তরের অপেক্ষায় আছি।
সংকট নিরসনে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে ৩১টি নতুন ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান হাসপাতাল পরিচালক। তবে, নতুন মেশিন স্থাপনের আগ পর্যন্ত সেবা সচল রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
তবে চমেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় আমাদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমাদের এখানে ৩১টি ডায়ালাইসিস মেশিন এবং জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬০টি মেশিন কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি)-এর মাধ্যমে এসব মেশিনের ক্রয় ও সংগ্রহের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
বর্তমানে এই সেন্টারের ৩১টির পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিকেলের কিডনি বিভাগে ২০টি মেশিনে ডায়ালাইসিস সেবা পান রোগীরা।
