আজকাল ওয়েবডেস্ক: অব্যাহত দিল্লির বিক্ষোভ আন্দোলন। রাজপথে রোজই একের পর এক দৃশ্যের জন্ম হয়েছে। ক্যামেরাবন্দী হচ্ছে একের পর এক ছবি। তারই মধ্যে একটি ছবিতে এক যুবতীর দৌড়ও লেন্সে ধরা পড়েছে। হাতে মুষ্টিবদ্ধ বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর পতাকা। এদিকে পেছনে তেড়ে করেছে পুলিশ। কিন্তু অবিচল হাসিমুখে পতাকা হাতে তাঁর সটান দৌড়ই নজর কেড়েছে সকলের। দিল্লির প্রতিবাদী আন্দোলনে নেহা বোরা, ঐশী ঘোষ, অঞ্জলীর-মতো আরও এক উজ্জ্বল প্রতিবাদী মুখ তাই এখন চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবাদী ওই তরুণীর নাম পুঝাক্কাল পবিত্রা। এতদিন তাঁর পরিচিতি শুধু নিজের কলেজ চত্বরেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন সেই তরুণীই জাতীয় রাজনীতির চর্চায়।
জানা গিয়েছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ হংসরাজ কলেজের পড়ুয়া পবিত্রা। মূলত কেরলের পালক্কাড় জেলার বাসিন্দা। নৃতত্ত্ববিদ্যার তৃতীয় বর্ষে পাঠরত পড়ুয়ার বয়স ২০ বছর। বিগত দু'বছর ধরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া' (SFI)-র যুক্ত তিনি।
সম্প্রতি দিল্লিতে এসএফআই আয়োজিত 'তিরঙ্গা উইমেন র্যালি'-কে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে আসে পুলিশ। একের পর এক বিক্ষোভকারীকে আটক করা শুরু হয়। আটক হয়েছিলেন পবিত্রাও।
পবিত্রা জানিয়েছেন, মহিলা পুলিশকর্মীদের ডাকার শব্দ শুনেই তিনি ও অন্য আন্দোলনকারীরা দৌড়তে বাধ্য হন। দৌড়নোর সময় তিনি নিজেও খেয়াল করেননি যে তাঁর হাতে তখনও সংগঠনের পতাকাটি রয়ে গেছে। আর সেই মুহূর্তেই ফ্রেমবন্দি হয় তাঁর দৌড়ানোর ছবি। যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রতিবাদ করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। সমাজব্যবস্থা এবং প্রশাসন বদলাতে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য।
ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর পবিত্রার পারিবারিক প্রেক্ষাপট নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর মা কে সি বিন্দু সিপিআইএম-এর সদস্য এবং পালক্কাড়ের মানকারা কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের অ্যাকাউনট্যান্ট। তাঁর বাবা প্রকাশন গত হয়েছেন। মাতামহ কে ভি চন্দ্রনও ওই এলাকার নামী কমিউনিস্ট নেতা তথা মানকারার প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে বাম মনোভাবাপন্ন পরিবারে বড় হয়ে উঠলেও, কোনও বড় রাজনৈতিক পদ বা রাজনীতিতে কোনও দীর্ঘ কেরিয়ার নয়। বরং আন্দোলনের এক মুহূর্তের এক লড়াকু ছবিই কলেজের ছাত্র রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে পবিত্রাকে আজ সারা দেশের নজর কেড়ে নেওয়া এক মুখ করে তুলেছে।
