Published on
:
2 min read
এক ব্যক্তিকে খুন করে তাঁর দেহ ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। গত বুধবার ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলায় খুনের ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার ৪ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার পরেই ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম রোহিত কুমার (৩৮)। রোহিতকে খুনের অভিযোগে তাঁর স্ত্রী, শাশুড়ি, শ্যালক-সহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবার দুপুরে কুজু থানা এলাকার আরগাদ্দা এলাকায় পারারু নালা ব্রিজের কাছে রোহিতের দেহ উদ্ধার হয়। রাস্তার ধারে একটি ঝোপের মধ্যে দেহটি লুকিয়ে রাখা ছিল বলে দাবি পুলিশের। মৃতের নাম পরিচয় জানতে পেরে পুলিশ রোহিতের পরিবারকে খবর দেয়। তখনই রোহিতের ভাই করণ কুমার কুজু থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করেন।
করণের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ রোহিতের স্ত্রী অঞ্জু দেবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক ভাবে সমস্ত ঘটনার কথা অস্বীকার করলেও পরে অঞ্জু রোহিতকে খুন করার কথা স্বীকার করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই অশান্তি হতো রোহিত ও অঞ্জুর। গত মঙ্গলবার রাতেও তেমনই অশান্তি হয়। এক পর্যায়ে অশান্তি চরমে পৌঁছলে অঞ্জু রোহিতের শ্বাসরোধ করে খুন করেন। এর পরে দেহটি বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে একটি ঝোপের ধারে ফেলে দেন।
জেরায় অঞ্জু জানিয়েছেন, এই কাজে তাঁর মা সুন্দরী দেবী, ভাই দীনেশ্বর প্রজাপতি এবং অঞ্জুর এক পরিচিত মহম্মদ শওকত আনসারি তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। এই ঘটনার তদন্তের জন্য SDO অলোক রঞ্জনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে শুক্রবার অঞ্জু, সুন্দরী, দীনেশ্বর এবং শওকতকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িতে রোহিতকে খুন করার পরে শওকতের গাড়িতে করে দেহটি নিয়ে এসে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি রক্তমাখা কাঠের তক্তা উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া একটি ওড়নাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।