সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ভূপাতিত করার পর সেগুলোর বিভিন্ন ভাঙা অংশ পশ্চিমাঞ্চলীয় একাধিক শহরে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তবে ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোকে নিশানা করে হামলার অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ধ্বংস করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ মক্কার ওয়াদি মুগামাস, জেদ্দার আল-নুজহা, তায়েফের ওয়াদি জলিল এবং রাবিগের একটি জনমানবহীন প্রান্তরে গিয়ে আছড়ে পড়ে। তবে এসব ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি। এর আগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ নাগরিকদের তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিশেষ জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল প্রশাসন।
পবিত্র নগরীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর সৌদি অভিযোগকে ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা বলে দাবি করেছেন হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। এ অভিযোগকে ‘বড় ধরনের মিথ্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে মক্কা ও মদিনার দিকে কোনো ধরনের আক্রমণ পরিচালনা করা হয়নি।
তবে হুতিদের পক্ষ থেকে পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, শুক্র ও শনিবার সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোতে তারা ধারাবাহিক আক্রমণ পরিচালনা করেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মাম ও নাজরান অঞ্চলের বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের সামরিক বিমানঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এ ছাড়া অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী পাইপলাইন ও পাম্পিং স্টেশনেও লক্ষ্যভেদ করার দাবি করেছে তারা। অবশ্য রিয়াদ কর্তৃপক্ষ এসব হামলার ফলাফল বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেনি।
এদিকে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে উপকূলরক্ষী বাহিনীর (কোস্টগার্ড) একটি কেন্দ্র নিশানা করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতিরা। তবে ওই ঘটনার বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
