আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের হাটখোলায় ২২ বছরের এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যু। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল ওই তরুণীকে। সেই হুমকি এবং পরিবারের সম্মানহানির আশঙ্কা থেকেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হাটখোলার বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছিলেন। এমনকী, আগামী দিনে তাঁদের বিয়ের কথাও চলছিল।
অভিযোগ, গতকাল দুপুরে ওই তরুণী তাঁর প্রেমিকের বাড়িতে গেলে এলাকার কয়েকজন তাঁদের ঘরের মধ্যে একা দেখতে পান। এরপর বাইরে থেকে ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও করা হয় এবং পরবর্তীতে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওই তরুণী। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং পরিবারের সম্মানহানির ভয়েই আজ দুপুরে নিজের বাড়িতে তিনি আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ। তরুণীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বারাসত থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন এবং অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মৃতার পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় তাঁর প্রেমিকের কোনও দোষ নেই। বরং যাঁরা ভিডিও করেছিলেন এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। পরিবারের আরও অভিযোগ, ভিডিও করার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশকর্মী রয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারাসত থানার সামনেও উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। গোটা ঘটনায় এখন পুলিশের পদক্ষেপ এবং তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
বারাসত জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্বার ব্যানার্জি জানান, বারাসতের এক মহিলা পুলিশ কর্মী ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
