স্কুলে এদিন ফুল খেলা ছিল। সেজন্য রাস্তার ধারে একটি দোকানে ফুল কেনার জন্য ভাইজিকে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কাকা। সেসময় বেপরোয়া একটি ট্রাক্টর এসে কাকা-ভাইজিকে ধাক্কা মারে। ঘটনায় মৃত্যু হয় দু’জনের। চতুর্থীর সকালে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে বর্ধমান শহরে। পুলিশ ঘাতক ট্রাক্টরের চালককে পাকড়াও করেছে। ঘটনায় শোকের ছায়া।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ৬ বয়সী ওই শিশুর নাম সোহানা সুলতানা, কাকা মইদুল মোল্লা। তাঁদের বাড়ি বর্ধমান সদর থানা এলাকার বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়ায়। সোহানা স্থানীয় বিদ্যার্থী গার্লস স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আজ, বুধবার স্কুলে ফুল খেলা অনুষ্ঠান ছিল। সকালে কাকার সঙ্গে সাইকেল চেপে স্কুলে যাচ্ছিল ওই শিশু। জিটি রোডের ধারে বীরহাটা ঘড়িমোড় এলাকায় কিছু ফুলের দোকান রয়েছে।
ভাইজির জন্য ফুল কেনায় একটি দোকানের সামনে সাইকেল থামিয়েছিলেন মইদুল মোল্লা। কাকার পাশে দাঁড়িয়েছিল ছোট্ট সোহানা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই একটি ট্রাক্টর রাস্তার উলটো দিক থেকে ডিভাইডার টপকে তাঁদের গিয়ে ধেয়ে আসে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি দোকানের ভিতর ঢুকে যায়। ভাইজি ও কাকাকে ধাক্কা মারে ওই ট্রাক্টর। দুর্ঘটনা দেখে ছুটে যান স্থানীয়রা। রক্তাক্ত শিশু ও তার কাকাকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, অনেক আগেই তারা মারা গিয়েছেন। খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমান সদর থানার পুলিশ।
পাকড়াও করা হয়েছে ঘাতক ট্রাক্টরের চালককে। জানা গিয়েছে, দোকানে ঢোকার আগে ট্রাক্টরটি এক রিকশাচালককেও ধাক্কা মেরেছিল। জখম ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি। প্রাথমিকভাবে অনুমান, ট্রাক্টরের চালক মদ্যপ ছিল। সেকারণেই এই দুর্ঘটনায়। শোক সংবাদ বাড়িতে পৌঁছলেই কান্নার রোল ওঠে পরিবারে। শোকস্তব্ধ প্রতিবেশীরাও। কাকা-ভাইজির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
